মানুষকে ‘অদক্ষ বানর’ বললেন মাস্ক, কারণ কী?
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৫৭ পিএম | ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
একসঙ্গে কয়েকটি বড় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্ল্যাটফর্মে হঠাৎ বিভ্রাট দেখা দেওয়ার পর এআই ছাড়া মানুষের কাজ করার সক্ষমতা নিয়ে মজা করেছেন মার্কিন ধনকুবের ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক।
তার মতে, ভবিষ্যতে এআইয়ের চোখে নিজেরা কোড লেখা মানুষকে অনেকটা অদক্ষ ও অকার্যকর বানরের মতো মনে হতে পারে। খবর ইন্ডিয়া টুডের।
গত রাতে প্রায় একই সময়ে চ্যাটজিপিটি, ক্লড ও গ্রোকের সেবায় বিভ্রাট দেখা দেয়। এতে কাজের ক্ষেত্রে এসব এআই টুলের ওপর ক্রমবর্ধমানভাবে নির্ভরশীল ব্যবহারকারীরা সমস্যায় পড়েন। কেউ এ নিয়ে রসিকতা করেন, আবার কেউ এআই ছাড়া কীভাবে কাজ সামলাবেন তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আলোচনায় যোগ দেন মাস্ক। ভাইরাল একটি ভিডিও সম্বলিত মিম শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘ভবিষ্যতের এআইয়ের চোখে মানুষ যখন কোড লিখছে।’
ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ওরাংওটাং পাথর ব্যবহার করে পেরেক ঠোকার চেষ্টা করছে। কাঠমিস্ত্রির কাজ অনুকরণ করতে গিয়ে প্রাণীটিকে বেশ হিমশিম খেতে দেখা যায়।
মাস্কের রসিকতার অর্থ হলো, ভবিষ্যতে এআই মানুষের হাতে কোড লেখার দৃশ্যকে ওই ওরাংওটাংয়ের কাজ করার চেষ্টার মতোই ধীর, অদক্ষ ও অকার্যকর হিসেবে দেখতে পারে।
এ নিয়ে এক্স ব্যবহারকারীরাও নানা রসিকতা করছেন। কেউ কেউ ক্লডকে প্রকৃতিবিষয়ক তথ্যচিত্রের বিখ্যাত বর্ণনাকারী ডেভিড অ্যাটেনবরোর মতো দেখিয়ে মজা করছেন, যেন এআই মানুষের কোড লেখার দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করছে।
ভিডিওটি বর্তমানে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে ডেভেলপার ও প্রযুক্তি ব্যবহারকারীরা এটি শেয়ার করে বলছেন, এআই ব্যবহার করতে না পারলে তারাও ভিডিওর ওরাংওটাংয়ের মতোই অদক্ষ হয়ে পড়েন।
একই সময়ে কেন বন্ধ হলো এআই সেবা?
চ্যাটজিপিটি, ক্লড ও গ্রোক প্রায় একই সময়ে সমস্যায় পড়লেও ৩টি প্ল্যাটফর্মের বিভ্রাটের পেছনে একটি অভিন্ন কারণ ছিল বলে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ওপেনএআই জানিয়েছে, ৩ সেপ্টেম্বর চ্যাটজিপিটি ও কোডেক্সে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। পরে প্রতিষ্ঠানটি সমস্যাটি শনাক্ত করে সমাধান করে এবং সেবা স্বাভাবিক হয়।
ওপেনএআইয়ের চূড়ান্ত আপডেটে বলা হয়, চ্যাটজিপিটি ও কোডেক্সে ত্রুটির কারণ দূর করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর কোডেক্সের কিছু রিমোট কন্ট্রোল ব্যবহারকারীকে তাদের মোবাইল ডিভাইস আবার যুক্ত করতে হতে পারে।
অন্যদিকে অ্যানথ্রপিকও ক্লডের একাধিক মডেলে ত্রুটির কথা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ক্লড মিথোস ৫.১, ক্লড ফেবল ৫.১ এবং ক্লড ওপাস ৫-এর অনুরোধে অতিরিক্ত ত্রুটির কারণ শনাক্ত করা হয়েছে এবং তা সমাধানে কাজ চলছে। পরে অ্যানথ্রপিক জানায়, সমস্যার সমাধান কার্যকর করা হয়েছে এবং সেবা স্বাভাবিক হয়েছে।
গ্রোকের ক্ষেত্রেও পৃথক বিভ্রাট দেখা দেয়। এক্সএআইয়ের স্ট্যাটাস পেজে প্রথমে জানানো হয়, গ্রোকে সমস্যা হচ্ছে এবং দ্রুত সেবা পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে। প্রায় ৩ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট পর সেবাটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়। পরে এক্সএআই জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং ট্রাফিক স্বাভাবিক রয়েছে।
অর্থাৎ সময়ের দিক থেকে ৩টি প্ল্যাটফর্মের বিভ্রাট প্রায় একই সময়ে হলেও, একটি মাত্র ত্রুটি বা ব্যর্থতার কারণে চ্যাটজিপিটি, ক্লড ও গ্রোক একসঙ্গে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
তিনটি এআই সেবাই পরে স্বাভাবিক হয়েছে। তবে এই ঘটনা মানুষের দৈনন্দিন কাজে এআইয়ের ওপর বাড়তে থাকা নির্ভরতার বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
ডেভেলপাররা কোড লেখা ও ত্রুটি সংশোধনে, লেখকরা খসড়া তৈরি ও সম্পাদনায় এবং সাধারণ ব্যবহারকারীরা তথ্য খোঁজা ও নানা প্রশ্নের উত্তর পেতে এআই চ্যাটবট ব্যবহার করছেন।
ফলে হঠাৎ এসব সেবা বন্ধ হয়ে গেলে অনেকেই এমন কাজেও সমস্যায় পড়ছেন, যেগুলো আগে নিজেরাই সহজে করতে পারতেন।
সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে
এমআই/টিএ