কে জানতো আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক ঘুঁটি, চিঠিতে মরিয়ম
ছবি: সংগৃহীত
০৫:২২ পিএম | ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী, স্বামীর প্রথম স্ত্রী ও এক স্বজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন তার বাবা। শুধু তাই নয়, তার রেখে যাওয়া কিছু লেখা নোটও যুক্ত করেছেন এতে।
জাতীয় সংসদের অফিসিয়াল প্যাড, সাদা কাগজ কিংবা লাল-কালো কালির আঁচড় প্রতিটি পাতায়ই যেন উঠে এসেছে এক সম্পর্কের টানাপোড়েন। কোথাও গভীর ভালোবাসা, কোথাও বিশ্বাসভঙ্গের যন্ত্রণা, আবার কোথাও পরাজয়ের আক্ষেপ ও আত্মসম্মান রক্ষার দৃঢ় ঘোষণা।
এমপি গাজী নজরুলের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া হাতে লেখা এসব চিঠিতে সম্পর্কের নানা আবেগঘন মুহূর্তের কথা উঠে এসেছে। চিঠিগুলোতে প্রতারণার অভিযোগ, সম্পর্কের জটিলতা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং তীব্র মানসিক কষ্টের কথা উল্লেখ রয়েছে। নিজেকে দাবার ঘুঁটি মনে হওয়ার কষ্টের পাশাপাশি শেষ পর্যন্ত আত্মসম্মান ধরে রাখার প্রত্যয়ের কথাও লেখা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের অফিসিয়াল প্যাডে কালো কালিতে লেখা একটি পাতায় মরিয়ম লিখেছেন: ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবোই বা কেমনে যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।’
অন্য একটি পাতায় নিজের অবস্থান ও ভালোবাসার টানাপোড়েনের কথা তুলে ধরে লেখা হয়েছে, ‘সে ছিল অন্য নারীর স্বামী কাগজে-কলমে অধিকার ছিল তার বউয়ের। আর আমি ছিলাম বোকা...!!! অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ...!!! কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের কারণ... ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়... ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’
আরেকটি চিঠিতে বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারিত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে লেখা, ‘সে বলেছিল আজ থেকে আমরা বন্ধু চলো একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক গুটি।’
জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা আরেকটি পাতায় রয়েছে ক্ষোভ ও পরিণতির কথা। সেখানে বলা হয়েছে, ‘আমি হেরেছি তুমি জিতেছো কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি, শৃঙ্গের শেষ বাড়িয়ে ও হাসতে হাসতে মুখে হাসি রেখেছি- দেখে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’
লাল কালিতে লেখা সংক্ষিপ্ত একটি বার্তায় নিজের আত্মসম্মানের কথাও স্পষ্ট করেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই … তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই...!’
চিঠিগুলোর সঙ্গে ১২ জুলাই ২০২৬ তারিখ সংবলিত একটি পাতাও পাওয়া গেছে। ওই পাতায় ঘুমানোর আগে করণীয় কয়েকটি ধর্মীয় আমলের তালিকা লেখা রয়েছে।
এতে কালেমা, দরুদ শরিফ, ঘুমের দোয়া, আয়াতুল কুরসী, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম ২১ বার, আস্তাগফিরুল্লাহ ৩ বার, ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া এহিয়া’, দরুদ শরিফ ১১ বার এবং ‘ইয়া আরহামার রাহিমিন’ ১১ বার পড়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
হাতে লেখা এসব পাতায় সম্পর্কের আবেগ, বিশ্বাসভঙ্গ, ভালোবাসার অপূর্ণতা এবং আত্মসম্মান রক্ষার যে বক্তব্য উঠে এসেছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত অনুভূতি ও বক্তব্য হিসেবে প্রতীয়মান হয়। চিঠিগুলোর বক্তব্যের সত্যতা বা প্রেক্ষাপট আলাদাভাবে যাচাইয়ের বিষয়।
এসএন