মাদ্রাসা শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষার্থীর অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল, সমালোচনার ঝড়
ছবি: সংগৃহীত
০৩:১৭ এএম | ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নেত্রকোনার এন আকন্দ কামিল মাদ্রাসার এক প্রভাষকের সঙ্গে এক শিক্ষার্থীর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি মাদ্রাসার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়। পরে এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে এমন ঘটনার পরও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। উল্টো অভিযুক্ত শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে তাকে সরানো হয় দায়িত্ব থেকে। এমন ঘটনায় অভিভাবকসহ সচেতন মহলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম মো. এহসানুল হক। তিনি মাদ্রাসাটির অনার্স বিভাগের আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ের প্রভাষক। তার পদটি নন-এমপিওভুক্ত। তিনি বিবাহিত এবং তিন সন্তানের জনক বলে জানা গেছে। তার বাড়ি জেলার দুর্গাপুরে উপজেলায়।
এলাকাবাসী, অভিভাবক ও মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট মাদ্রাসার একটি কক্ষে ওই শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীর অন্তরঙ্গ অবস্থানের দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জানতে চাইলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল বাতেন বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিয়ে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে ওই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আমরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুনমুন জাহান লিজার পরামর্শে তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দিয়েছি।
জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুনমুন জাহান লিজা বলেন, আমি ঘটনাটি শুনার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছি। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ কেন ব্যবস্থা নেয়নি বিষয়টি তারা ভালো বলতে পারবেন।
অভিযুক্ত প্রভাষক মো. এহসানুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, আমরা সন্তানদের মানুষ করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেই। আর শিক্ষকরাই যদি এমন আচরণ করে তাহলে কী শিখবে সন্তানরা। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দাবি জানাই। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের যারা এ ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থার দাবি করছি।
মাদ্রাসার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে কামিল ও অনার্সসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জানতে চাইলে নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একেএস/টিএ