ক্যানসারজয়ী দত্তক মেয়ের সিনেমায় অভিষেক, কেঁদে ফেললেন বিবেক ওবেরয়
ছবি: সংগৃহীত
০৭:০৬ পিএম | ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বলিউড অভিনেতা বিবেক ওবেরয়। ব্যক্তিগত জীবনে প্রিয়াঙ্কা আলভার সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন তিনি। এ সংসারে তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। তারা হলো ছেলে ভিভান বীর ওবেরয় (১৩) ও কন্যা আমেয়া নির্বাণা ওবেরয় (১১)।
বায়োলজিক্যাল সন্তান ছাড়াও আরও কয়েকজন দত্তক সন্তান রয়েছে বিবেকের; যারা ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছে। কেবল তাদের চিকিৎসার দায়িত্বই নেননি, শিক্ষা ও বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করেছেন তিনি। তাদেরই একজন সাহারা শাহ। এই দত্তক কন্যা ক্যানসারমুক্ত হয়ে এবার প্রথম সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কন্যাকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন বিবেক।
সাহারা শাহর বয়স যখন মাত্র আড়াই বছর, তখন তাকে দত্তক নেন বিবেক ওবেরয়। এরপর তাকে নিয়ে যান ক্যানসার পেশেন্টস এইড অ্যাসোসিয়েশনে (সিপিএএ)। ভারতে ক্যানসার চিকিৎসা ও সামগ্রিক সহায়তায় কাজ করা অন্যতম বড় অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এটি। বিশেষ করে যেসব দরিদ্র রোগীর চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই, তাদের চিকিৎসায় সহায়তা করে মুম্বাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি।
ক্যানসারমুক্ত সাহারার বয়স এখন ২২ বছর। খুব শিগগির বাণিজ্যিক বিমানের পাইলট হওয়ার কথা রয়েছে তার। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হয় সিআরপিএ ক্যানসার রোজ ডে। এ অনুষ্ঠানে সাহারা জানান, দত্তক বাবা বিবেক ওবেরয়ের পথ অনুসরণ করতে চান তিনি। একটি নেপালি সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। আগামী বছর সিনেমাটি মুক্তির কথা রয়েছে।
সাহারার এই ঘোষণায় চমকে ওঠেন বিবেক ওবেরয়। সাহারা বলেন, ‘আমি আমার এভিয়েশন ট্রেইনিং শেষ করেছি। খুব শিগগির দুবাইয়ে আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে। আমার মনে হয় না, এরপর আমাদের মাঝে কোনো দূরত্ব থাকবে।’
এসব কথা বলার পর দত্তক বাবার ৫০তম জন্মদিন উপলক্ষে বিবেককে একটি বিশেষ উপহার দেন সাহারা। গত ৩ সেপ্টেম্বর নিজের ৫০তম জন্মদিনে বিবেক ক্যানসারে আক্রান্ত আরও ৫০ শিশুর দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন।
বিবেক ওবেরয়কে উদ্দেশ করে সাহারা বলেন, ‘আমি একটি সিনেমায় প্রধান অভিনেত্রীর চরিত্রে অভিনয় করছি। এটি একটি নেপালি সিনেমা। আমি প্রথমে আপনার আশীর্বাদ নিতে চেয়েছিলাম। আপনি আমার জীবনের বিশাল একটি অংশ। ছোটবেলা থেকেই আপনাকে দেখেছি, সবসময় আপনার পদাঙ্ক অনুসরণ করতে চেয়েছি। আমি এখনো আপনার পথের অর্ধেকও পাড়ি দিতে পারিনি।’
সাহারা আরও বলেন, ‘অভিনয়, নাচ কিংবা যা-ই করতে চেয়েছি, আপনি সবসময় আমাকে সমর্থন করেছেন। সেটাই আমাকে এবং আমার মাকে বড় স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছে। আমরা এমন একটি পরিবার থেকে এসেছি, যেখানে এসব কিছু ছিল অনেক দূরের স্বপ্ন। আপনার কারণেই সবকিছু সম্ভব হয়েছে।’
বিবেকের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করে সাহারা বলেন, ‘আপনাকে এই উপহার দিতে পারাটা আমার কাছে খুবই ছোট একটি ব্যাপার। কারণ আপনি আমার জন্য যা করেছেন, তার তুলনায় এটি কিছুই না। আপনার কারণেই সবকিছু সম্ভব হয়েছে। আপনার প্রতি আমার অনেক অনেক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। আমি সত্যিই আবেগাপ্লুত।’
সাহারার কথা শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বিবেক। এরপর মেয়েকে জড়িয়ে ধরেন এই অভিনেতা। মঞ্চে তার উপস্থিতিতেই সাহারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের প্রথম সিনেমার চুক্তিপত্রে সই করেন। পরে সিনেমাটির পোস্টারও উন্মোচন করা হয়। বিবেক হাততালি দিয়ে মেয়ের নতুন যাত্রাকে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানে নিজের আবেগ সংবরণ করতে পারেননি বিবেক ওবেরয়ও। সাহারাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের একটি মুহূর্ত এটি। আমি চাই, তুমি তোমার ক্যারিয়ারে অনেক উপরে উড়ে বেড়াও এবং সিনেমায় অনেক ভালো করো। তোমাকে নিয়ে ভীষণ খুশি। ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুক, বেটা!’
সাহারাকে ‘বিজয়ী’ বলে মন্তব্য করেন বিবেক। তিনি বলেন, ‘কখনো ভুলে যেও না, তুমি একজন বিজয়ী। তুমি ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়ী হয়েছো। আজ তুমি জীবনে একজন সফল ও সুখী মানুষ।’
সাহারার শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বিবেক ওবেরয় বলেন, ‘আমি কতটা খুশি, তা তোমাকে বলে বোঝাতে পারব না। আমি গর্বে কাঁদছি। আমি সেই আড়াই বছরের ছোট্ট মেয়েটিকে দেখেছিলাম; যার চোখ ছিল লাল, ফ্যাকাশে মুখ, কেমোথেরাপির মধ্য দিয়ে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আমি তার মধ্যে লড়াই করার শক্তি দেখেছিলাম। যেভাবে সে আমার আঙুল ধরে রেখেছিল, তখনই বুঝেছিলাম, সে জিতবে। আমি প্রতিদিন তার জন্য প্রার্থনা করতাম। আজ সে ক্যানসারমুক্ত। কঠোর পরিশ্রমের ফলও এখন সে পাচ্ছে। আমি তার জন্য ভীষণ গর্বিত।’
এসএন