© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন-ভারতকে এগিয়ে আসতে হবে : জামায়াত আমির

শেয়ার করুন:
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন-ভারতকে এগিয়ে আসতে হবে : জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৩২ পিএম | ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে চীন, ভারত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সাময়িক অর্থসহায়তায় রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান হবে না। তাদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরি করাই এর চূড়ান্ত সমাধান।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা বিষয় একটা আন্তর্জাতিক বিষয়। আমরা এখন ১৮ লাখ মানুষকে আমাদের মাটিতে ধারণ করছি, কিন্তু তাদের কাছে আমরা মানবিক, পূর্ণ সহায়তা দিতে পারছি এটা আমরা বলতে পারব না। রোহিঙ্গা শিবিরগুলো আমার বারবার পরিদর্শন করার সুযোগ হয়েছে, তাদের জীবনের কান্না এবং করুণ কাহিনি দেখার সুযোগ হয়েছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে চূড়ান্ত সমাধান হচ্ছে তাদেরকে তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া, সম্মান, এবং নিরাপত্তার সাথে। কিন্তু এই জায়গাটা এখনো তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, এই লোকেরা মূলত স্থানান্তরিত হয়েছেন দুটো দেশে, আর বাকিগুলো অল্প। একটা বাংলাদেশ, আরেকটা মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়া তাদেরকে প্রত্যর্পণের কিছু ব্যবস্থা ইদানীং নিয়েছে, এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। বাংলাদেশ কিছুই করতে পারে নাই। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা অনেক আশার বাণী শুনেছিলাম, কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে যখনই আমাদের বসা হয়, মতবিনিময় হয়, তখন আমরা তাদেরকে বলি, সাময়িক অর্থসহায়তায় তাদের সমাধান হবে না। চূড়ান্তভাবে তাদেরকে তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে। এটা একা বাংলাদেশ পারবে না। তবে এখানে দুইটা দেশকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। একটা হচ্ছে চীন, আরেকটা হচ্ছে ভারত। তাদের সহযোগিতা লাগবেই। আর মায়ানমার তো আছেই।

মিয়ানমারের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ চলছে, নামকরা একটা সরকার আছে, কিন্তু কার্যত যুদ্ধে লিপ্ত গোষ্ঠীগুলো এক এক এলাকা দখল করে রেখেছে। রাজধানী ছাড়া বাকি এলাকার উপরে তেমন নিয়ন্ত্রণ নেই বর্তমান সরকারের। এটা একটা সংকট। কার সাথে এই আলোচনাটা অনুষ্ঠিত হবে? কার সাথে আলোচনা? এটা বাংলাদেশ পারবে না। কিন্তু ওই দুইটা দেশ যে দুই দেশের কথা বললাম (ভারত ও চীন) আর আন্তর্জাতিক মহল। জাতিসংঘ যদি এই ব্যাপারে উদ্যোগী হয়, তাহলে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

তিনি বলেন, আমরা জানি, ভাষানচরে ২ লাখ মানুষকে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের জীবন অনেকটা বলতে পারেন যে আসলে তাদেরকে ওখানে বন্দি দশায় রাখা হয়েছে। তারা বাংলাদেশে অপরাপর সকল এলাকার সাথে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। ওখানেও মাঝে মাঝে অমানবিক অনেক ঘটনা ঘটে। কিন্তু এটা বাইরে আসার কোনো সুযোগ নেই। একটা বন্দিশিবিরের মতো তারা সেখানে অবস্থান করছে।

সাময়িক সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা সাময়িক সমাধানের মধ্যে মনে করি যে আন্তর্জাতিক মহল যদি মানবিক সহায়তাটা বাড়ায়। যদি তাদেরকে উৎপাদন সহায়ক কোনো কিছুতে প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তারাই তাদের রুজি-রোজগার করল। বাজারজাতকরণটা বাংলাদেশ সরকার করল। ওখানে রেখেও এটা সম্ভব, সীমিত পরিসরে তাদেরকে চলাচলের সুবিধা দিয়েও সম্ভব।

মালয়েশিয়া ও তুরস্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় তাদেরকে বন্দিশিবিরে রাখা হয়নি। তুরস্কে ৬০ লাখ শরণার্থী ছিল এক সময়। সেখানেও তাদেরকে বন্দিশিবিরে রাখা হয়নি। তাদেরকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। নাগরিকত্ব দেওয়া হয়নি। কিন্তু তাদেরকে বেঁচে থাকার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি লেখাপড়ারও সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এখানে কিন্তু তাদের বাচ্চাদের লেখাপড়ারও সুযোগ নেই। শুধু তাদের ভাষায়, প্রাথমিক স্তর পর্যন্ত কিছু শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। এর বাইরে নয়।

এফআর/এসএন

মন্তব্য করুন