© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সালমান মুক্তাদিরের পোস্ট সরানোর পরও জামায়াত আমিরের স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

শেয়ার করুন:
সালমান মুক্তাদিরের পোস্ট সরানোর পরও জামায়াত আমিরের স্ট্যাটাস নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:২২ পিএম | ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ইউটিউবার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া স্ট্যাটাসের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগের পর জামায়াতে ইসলামীর আমির ওই বক্তব্যকে বিশ্বাসযোগ্য ধরে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন এমন প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বিরোধী দলের রাজনীতি করা কেউ সরকারের কোনো সমস্যা পেলে সেটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চাইবেন, সেটি স্বাভাবিক। এটা আমরা বিরোধী দলে থাকলে আমরাও করব, এটাই নিয়ম।

তবে পরবর্তী সময়ে সালমান মুক্তাদির তার পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার পরও ওই ঘটনার ভিত্তিতে দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বা পোস্টগুলো বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জাহেদ উর রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার বলেন, সালমান মুক্তাদির নিজেই যখন তার আগের পোস্ট বা বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, তখন তার ভিত্তিতে দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য থেকেও সংশ্লিষ্টদের সরে আসা উচিত ছিল।

তিনি বলেন, তারা যদি বলতেন যে, ঠিক আছে, আমরা আগে এভাবে জেনেছিলাম বলে স্ট্যাটাসটা দিয়েছি, এখন এটা না, আমরা এই ব্যাপার থেকে আমাদের স্ট্যাটাস উইথড্র করলাম, এইটুকু হলেই হতো।

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার পর তার দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক জানতে চান, তিনি প্রথমে বিএনপির নেতারা চাঁদা চেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন। পরে আবার জানান, চাঁদাবাজির বিষয়টি নিশ্চিত নয়। একজন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কাছ থেকে এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে?

উত্তরে জাহেদ উর রহমান বলেন, সালমান মুক্তাদির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকার তার প্রতি সহানুভূতিশীল। তবে ঘটনার বিষয়ে তিনি যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে আমরা সহানুভূতি রেখে কথা বলি, কারণ উনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেটার শিকার হয়েছেন। আমরা তার প্রতি সহানুভূতিশীল।

সালমানের বক্তব্যের পর রাজনৈতিক নেতাদের কেউ কেউ সেই তথ্যের ভিত্তিতে মন্তব্য করেছেন বলেও উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, পরে সালমান মুক্তাদির নিজেই স্বীকার করেছেন যে বিষয়টি আসলে চাঁদাবাজির ঘটনা নয়। একই সঙ্গে তার স্টুডিও ছাড়াও আরও কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ধরনের সহিংসতার পক্ষে সরকার সাফাই গাইছে না। এ ধরনের ঘটনা হওয়া উচিত ছিল না এবং তা আটকানো উচিত ছিল। এখন সরকারের দায়িত্ব দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।

‘রিচ’ বেশি হলে দায়িত্বও বেশি

সালমান মুক্তাদিরের ঘটনা নিয়ে অপতথ্যের প্রসঙ্গ তুলে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাবও ব্যাপক হতে পারে।

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে অপতথ্য এখন বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাদের ব্যাপক ‘রিচ’, ‘ভয়েস’ ও ‘ট্র্যাকশন’ রয়েছে, তাদের দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।

জাহেদ উর রহমান বলেন, আমি আশা করি, সালমান মুক্তাদিরের মতো মানুষ যাদের প্রচুর রিচ রয়েছে, ভয়েসের, ট্র্যাকশন রয়েছে, তারা দায়িত্বশীল হবেন।


এমআই/এসএন  

মন্তব্য করুন