ইসরায়েলে নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুকে সমর্থনে অস্বীকৃতি ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত
০৮:২০ এএম | ০২ অক্টোবর, ২০২৬
আসন্ন ইসরায়েলি জাতীয় নির্বাচনের আগে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে সরাসরি সমর্থন জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
টাইম সাময়িকীতে প্রকাশিত এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর পুনর্নির্বাচন প্রসঙ্গে সরাসরি সমর্থন এড়িয়ে তিনি জানান, নির্বাচনে কাকে সমর্থন করবেন তা নিয়ে তিনি মাথা ঘামাচ্ছেন না, বরং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করাই ওয়াশিংটনের মূল অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে ইসরায়েলে নিজের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা 'প্রায় ৯৯ শতাংশ' বলে দাবি করেন তিনি।
নেতানিয়াহুর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তথা দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প জানান, আইজেনকোট সম্পর্কে তিনি কোনো খারাপ কথা শোনেননি। তবে নেতানিয়াহুকে এখনই মাঠের বাইরে ভাবলে ভুল হবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, অতীতে বহুবার যেমন তাকেও বাতিলের খাতায় ফেলা হয়েছিল, তেমনি নেতানিয়াহুকেও বহুবার সবাই শেষ ভেবেছিল; তাই 'বিবি'কে খাটো করে দেখা ঠিক হবে না।
সম্প্রতি ইরান যুদ্ধ এবং গাজা ও লেবাননে চলমান সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে বলেও আভাস মিলেছে। এছাড়া ৭ অক্টোবরের হামলার আগে নেতানিয়াহুর কাছে আগাম গোয়েন্দা তথ্য ছিল- এমন দাবি নাকচ করে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তথ্য থাকলে ইসরায়েলি বাহিনী অবশ্যই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিত।
এদিকে চলমান ইরান যুদ্ধ সপ্তম মাসে পড়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধটি চার থেকে আট সপ্তাহে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তেহরানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামো পুরোপুরি ভেঙে দিতে তিনি নিজ থেকেই অভিযানের পরিধি বাড়িয়েছেন। শুরুতেই থেমে যাওয়া তার কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি বলেই হামলা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধে ইরানের কৌশল সাময়িক কাজ করলেও, পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ওই কৌশলগত জলপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রণালীটি পুনরায় খুলে দেয়ার বিনিময়ে তেহরানের দেয়া একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন, কারণ তার মতে প্রস্তাবের শর্তগুলো যথেষ্ট ইতিবাচক ছিল না। তবে আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বিমান হামলা আরও জোরদার করা হবে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করেননি।
কেএন/টিএ