ইউপি নির্বাচনরোজার আগেই তিন ধাপের ভোট নিতে চায় ইসি
ছবি: সংগৃহীত
১০:১৮ এএম | ০২ অক্টোবর, ২০২৬
নির্বাচন কমিশন (ইসি) রোজার আগেই ইউপি নির্বাচন শুরু করার কথা ভাবছে। এ ক্ষেত্রে রোজার আগে তিন ধাপের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গত বুধবার দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আমরা ইউপি নির্বাচন শুরু করব ইনশাআল্লাহ। কমিশন সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।’
আগামী বছরের ৮ অথবা ৯ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু হওয়ার কথা। রহমানেল মাছউদ বলেন, রোজা শুরুর আগে আমরা তিন ধাপের নির্বাচন সেরে ফেলব।
প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের ৪০ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে। প্রথম ধাপে দেশের ৬০ জেলার সদর উপজেলা ও কিছু ক্ষেত্রে জেলা শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে উপজেলা নির্ধারণ করে সেই সব উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। প্রয়োজনীয় গাইডলাইন ইসির সিনিয়র সচিবকে জানানো হয়েছে। ইসি সচিবালয় বাস্তবতা ও আইন-কানুন দেখে উপজেলাগুলো নির্ধারণ করবে।
’
সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমরা আলোচনা করেছি। সুবিধা-অসুবিধা সামনে এসেছে। এখন আমরা চূড়ান্ত গাইডলাইন তৈরি করব।’
যদিও এর আগে নির্বাচন কমিশন থেকে বিভিন্ন সময় বলা হয়েছিল, আগামী নভেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চান তাঁরা। সে অনুযায়ী গত ১৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, ‘আমরা আশা করছি, ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে পারব।
’ তবে তিনি এ কথাও বলেন, ‘১৭ সেপ্টেম্বর আমাদের আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় নির্বাচনের সময় চূড়ান্ত করা হবে।’ কিন্তু ওই সভায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে মাঠের বাস্তবতা তুলে ধরে নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচন না করে জানুয়ারিতে করার পরামর্শ দেওয়া হয়। নভেম্বর-ডিসেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষা ও জাতীয় দিবসে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ব্যস্ততাসহ কিছু প্রতিকূল বাস্তবতা তুলে ধরা হয়।
ওই সভা শেষে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠকে সবাই সম্মত হয়েছেন যে ইউপি নির্বাচন এইচএসসি পরীক্ষার আগে ৬ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে পরীক্ষা থাকায় নির্বাচন আয়োজনে ‘স্পেস’ খুব কম পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে রমজানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।’
সম্প্রতি একজন নির্বাচন কমিশনার দেশের একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আইন অনুযায়ী ইসি নির্বাচন আয়োজনে বাধ্য। স্থানীয় সরকারের প্রায় সব প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করার উপযোগী। আমাদেরই তো উদ্যোগ নিতে হবে। আমরা আলাপ তুললাম। সবাইকে ডাকলাম। সুবিধা-অসুবিধা জানলাম। এখন সবাই মিলে কাজ করবে। আলাপটা তো তুলতে হবে? সামনের জানুয়ারিতেই নির্বাচন শুরু হবে।’
ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এর আগে কখনো দেখিনি, কমিশন সভার সিদ্ধান্ত ছাড়া এভাবে আগে থেকে নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা দিতে। তারিখ নির্ধারণের আগে সাধারণত সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলাপ হয়। তারপর কমিশন সভায় বসে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবার এর ব্যতিক্রম হয়েছে।
ইসি সচিবালয়ের নির্বাচনী শাখা সূত্র জানায়, আগের ঘোষণা মতো ৮০টি উপজেলার ইউপিগুলো ধরেই নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। কোন কোন উপজেলার ইউপিগুলোর ভোট হবে, তা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। আগে একটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছিল, তাতে কিছু সংযোজন-বিয়োজন হতে পারে। কয়েকটি ইউপির নির্বাচন করার জন্য আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা জেলার তিনটি করে উপজেলার ইউপিগুলো থাকবে প্রথম ধাপে। কুমিল্লায় ১৮ ও চট্টগ্রামে ১৫টি উপজেলা রয়েছে। যেসব জেলায় ১০টির বেশি উপজেলা রয়েছে, সেসব জেলা থেকে দুটি করে উপজেলা বাছাই করা হবে। ১৩টি করে উপজেলা রয়েছে ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, সিলেট ও কিশোরগঞ্জে। এ ছাড়া বগুড়া, সুনামগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে ১২টি করে এবং নওগাঁ জেলায় ১১টি উপজেলা রয়েছে। এসব জেলা থেকে আরো ১২টি উপজেলা নেওয়া হবে। ছয়টি উপজেলা নেওয়া হবে যেসব উপজেলার ইউপি নির্বাচনের সময়সীমা অনেক আগেই পার হয়েছে।
কেএন/টিএ