অতীতের গ্লানি ভুলে নতুন উদ্যমে পর্যটন খাতে কাজ করতে হবে : পর্যটনমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৭:৪৯ এএম | ০৪ অক্টোবর, ২০২৬
অতীতের গ্লানি ভুলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন উদ্যমে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা ও প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষ্যে গত এক সপ্তাহে শোভাযাত্রা, সাইকেল র্যালি, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য সিটি ট্যুর, পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজন ও বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশজুড়ে সপ্তাহব্যাপী এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে অংশ নেওয়া সংসদ সদস্য, স্থানীয় প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।
এবারই প্রথমবারের মতো ১৬টি ক্যাটাগরিতে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার’ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, এ পুরস্কার পর্যটন খাতের উদ্যোক্তা ও কর্মীদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের ফলে বিশ্বের পর্যটন ব্যবস্থা নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশের পর্যটন খাতকেও এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নিতে হবে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে জাতীয় পর্যটন কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। জিডিপিতে পর্যটনের অবদান বর্তমানের প্রায় ৩ শতাংশ থেকে ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা, নদী ও জলাভূমিভিত্তিক পর্যটনের প্রসার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন হাবে রূপান্তরের জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মডেলে ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাংস্কৃতিক পর্যটনের বিষয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পদ পর্যটনের অন্যতম ভিত্তি। প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা, লোকজ ঐতিহ্য, উৎসব ও দেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করে সাংস্কৃতিক পর্যটন আরও বিকশিত করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে দেশের ৫৫৪টির বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক পর্যটন বিকাশে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সইয়ের কার্যক্রম চলছে।
বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আরও বেশি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, দেশের পর্যটন উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। পর্যটন উদ্যোক্তা, হোটেল-মোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ী, ট্যুর অপারেটর এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বিনিয়োগবান্ধব নতুন জাতীয় পর্যটন নীতিমালা ২০২৬ প্রণয়ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, বিগত ২০ বছরে দেশের পর্যটন খাতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অতীতের গ্লানি ভুলে নতুন উদ্যমে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। এমন একটি পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা পান।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতারের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।
কেএন/এসএন