© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ভারতে স্টারলিংকের অনুমতি না পাওয়া ‘সত্যিই উদ্বেগজনক’ : ইলন মাস্ক

শেয়ার করুন:
ভারতে স্টারলিংকের অনুমতি না পাওয়া ‘সত্যিই উদ্বেগজনক’ : ইলন মাস্ক

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৩৫ এএম | ০৯ অক্টোবর, ২০২৬
ভারতের বাজারে ব্যবসা শুরুর অনুমতি না পাওয়াকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।

ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর এক মন্তব্যের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই নিউজ জানায়, এর আগে মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের আইন ও শর্ত মেনে চলার পরও পাঁচ বছর ধরে স্টারলিংক দেশটিতে ব্যবসা শুরুর অনুমতি পাচ্ছে না। এ বিষয়ে রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের জবাবে মাস্ক লেখেন, ‘ধন্যবাদ, রাহুল। পরিস্থিতি সত্যিই উদ্বেগজনক।’

এর আগে মাস্কের পোস্টের জবাবে রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘ভারতে স্বাগত, ইলন। অন্য লোকটির সঙ্গে পরিচিত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, কী হয় দেখবেন।’

স্টারলিংক হলো স্পেসএক্সের উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেটসেবা। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ১৬৫টিরও বেশি দেশে ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে বলে দাবি করেছেন মাস্ক।

তার প্রশ্ন, এত দেশে অনুমতি পেলেও ভারতে কেন এখনো সেবা চালুর অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

এক্সে দেওয়া আরেক পোস্টে মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী স্টারলিংকের প্রবেশ আটকে দিচ্ছেন। তিনি লেখেন, ‘আম্বানিই কি ভারতের আসল ক্ষমতাধর ব্যক্তি?’ অন্য এক পোস্টে মাস্ক বলেন, কিছু প্রভাবশালী ধনকুবের নিজেদের একচেটিয়া ব্যবসা ধরে রাখতে স্টারলিংকের পথে বাধা সৃষ্টি করছেন। তার দাবি, এতে ভারতের সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তবে স্টারলিংকের ব্যবসা শুরুর অনুমতি আটকে রাখার অভিযোগ নাকচ করেছে ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের দাবি, উপগ্রহ যোগাযোগসহ টেলিযোগাযোগ সেবার অনুমোদনের ক্ষেত্রে দেশটির নিয়ম-কানুন ন্যায্য। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতি বৈষম্য করা হচ্ছে না।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, পৃথিবীর চারপাশে ঘুরতে থাকা উপগ্রহের মাধ্যমে সেবা দেয়, এমন তিনটি প্রতিষ্ঠানকে টেলিযোগাযোগ সেবার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের কাজ এখনো চলছে।

মন্ত্রণালয় আরো জানায়, ব্যবহারকারী ও তাদের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত শর্ত পূরণের প্রমাণ দিতে হবে। নিরাপত্তা যাচাই শেষ হলে প্রতিষ্ঠানগুলো পরবর্তী ধাপে যেতে পারবে। এ পর্যায়ে উপগ্রহ যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় তরঙ্গ ব্যবহারের অনুমতি নিতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, তিনটি প্রতিষ্ঠানই এখন প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে। তাই অনুমোদনপ্রক্রিয়ায় অন্যায় বা বৈষম্যের অভিযোগ ভিত্তিহীন। এদিকে, গত ৭ অক্টোবর ইন্ডিয়া মোবাইল কংগ্রেস ২০২৬-এ বক্তব্য দেন স্টারলিংকের ব্যবসা পরিচালনা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট লরেন ড্রেয়ার। তিনি বলেন, ভারতের জন্য বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করেছে স্টারলিংক। দেশটিতে সেবা চালুর প্রস্তুতিও নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

ড্রেয়ার জানান, ভারতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরিতে বিনিয়োগ করেছে স্টারলিংক। এর মধ্যে রয়েছে ২০টি গেটওয়ে কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে শত শত অ্যানটেনা রয়েছে। পাশাপাশি সেবা পরিচালনার ব্যবস্থাও তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ভারতের ব্যবহারকারীদের তথ্য দেশটির ভেতরেই রাখা হচ্ছে। ড্রেয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতের নিয়ম ও চাহিদার সঙ্গে নিজেদের কার্যক্রম মানিয়ে নিতে গত পাঁচ বছর ধরে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা, শিল্প খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে স্টারলিংক।

স্টারলিংকের দাবি, ভারতে সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরিতে তারা বিনিয়োগ করেছে। অন্যদিকে, ভারতের সরকার বলছে, নিরাপত্তা যাচাই শেষ করা এবং তরঙ্গ ব্যবহারের অনুমতি পাওয়ার শর্ত পূরণের ওপরই সেবা চালুর অনুমোদন নির্ভর করছে।

আরআই/টিএ

মন্তব্য করুন