ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনেছিলেন শান্তিতে নোবেল পাওয়া নাভানেথেম নাভি পিল্লাই
ছবি: সংগৃহীত
০৫:১৪ পিএম | ০৯ অক্টোবর, ২০২৬
শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) বিচারক নাভানেথেম নাভি পিল্লাই। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এই ঘোষণা দেয়।
দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিল্লাইয়ের নাম ঘোষণা করে নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ভাটনে ফ্রাইডনেস জানান, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সংঘাত বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইনের প্রতিষ্ঠানগুলো যখন রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে পড়ছে, ঠিক সেই সময়ে বলপ্রয়োগ ছাড়া শান্তিপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তিতে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুত্ব তুলে ধরতেই তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
নোবেল কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করাই একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বের পূর্বশর্ত।
নাভি পিল্লাই ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় তিনি ইসরায়েলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের শতাধিক সদস্য তার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে ইসরায়েলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন এবং হামাসকে বাদ দিয়ে কেবল ইসরায়েলের তদন্ত করায় মানবাধিকার কাউন্সিলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
পরবর্তীতে তিনি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সংক্রান্ত জাতিসংঘের একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের প্রধান হিসেবেও কাজ করেন। ২০২৫ সালে ওই কমিশন অভিযোগ তোলে, গাজায় ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েল 'গণহত্যা' চালাচ্ছে। যদিও ইসরায়েল এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে আসছে।
সেই সময় পিল্লাই মন্তব্য করেছিলেন, গণহত্যা সনদের শর্ত অনুযায়ী গাজায় ফিলিস্তিনিদের ধ্বংস করার উদ্দেশ্য সেখানে স্পষ্ট। পুরস্কার ঘোষণার পর তাৎক্ষণিকভাবে টেলিফোনে পিল্লাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
এমআর/টিএ