নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার পরই আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্প প্রশাসনের
ছবি: সংগৃহীত
০১:৫৪ এএম | ১০ অক্টোবর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক বিচারপতি নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আদালতটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
শুক্রবারের (৯ অক্টোবর) এ পদক্ষেপে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আইসিসির উপপ্রধান কৌঁসুলি নাজহাত শামীম খান এই নিষেধাজ্ঞার নিন্দা জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন এবং একটি স্বাধীন বিচারিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দুর্বল করা। তবে নিষেধাজ্ঞার কারণে আদালতের তদন্ত, বিচার ও অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ হবে না বলে জানান তিনি।
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করে থাকে। আদালতটির প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধিতা দীর্ঘদিনের। এর আগে আদালতের কয়েকজন কৌঁসুলি ও বিচারকের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ওয়াশিংটন। তবে এবারের পদক্ষেপে আদালতকে সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, মার্কিন নাগরিকদের বিচার করার সুযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে কখনোই দেবেন না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আইসিসিকে ‘বেআইনি ও বিপজ্জনক’ প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করে তিনি জানান, আদালটির সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করা হবে এবং এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ সীমিত করা হবে।
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করে। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই আদালতের বিরোধিতা করে আসছে ওয়াশিংটন। আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আদালতটির একটি তদন্ত নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি ছিল। ওই তদন্ত পরে বন্ধ হয়ে যায়।
আইসিসির সদস্য দেশের সংখ্যা ১২৫। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সব দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক ছাড়া ন্যাটো জোটের সব সদস্য দেশ এই আদালতের সদস্য। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের অনেকে আইসিসির প্রতি সমর্থন দিয়ে আসছে। এর মধ্যে আদালটির সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসে, যা ইইউ ও ন্যাটোর সদস্য।
শুক্রবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাই ২০০৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত আইসিসির আপিল বিভাগে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নোবেল কমিটি বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনের বিচারক ও প্রতিষ্ঠানগুলো যখন রাজনৈতিক আক্রমণের মুখে, তখন পিল্লাইকে পুরস্কার দেওয়ার মধ্য দিয়ে আইনের শাসনের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছে তারা।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সীমিত করতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় কিছু লেনদেনের ক্ষেত্রে চারটি সাধারণ অনুমতিপত্র জারি করেছে। এর আওতায় আদালতটির টেলিযোগাযোগ, সফটওয়্যার, পেনশন পরিশোধ এবং আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু লেনদেন চালু রাখা যাবে।
মার্কো রুবিও বলেন, আইসিসি এবং আদালত প্রতিষ্ঠার রোম সংবিধিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ সমাধানের সুযোগ দিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপে দেরি করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।
তিনি বলেন, ‘হয় আইসিসি তাদের হুমকি বন্ধ করবে, নয়তো আমরা আইসিসিকে বন্ধ করে দেব। আমরা আশা করি, আমাদের মিত্ররা—যাদের অনেকেই আইসিসির সদস্য এবং নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য মার্কিন সেনাদের ওপর নির্ভরশীল—আদালটিকে নিয়ন্ত্রণে আনবে।’
রুবিও আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমনভাবে পদক্ষেপটি সাজিয়েছে, যাতে আইসিসির সদস্য দেশগুলো আলোচনার মাধ্যমে মার্কিন উদ্বেগের সমাধান দিতে পারে। এসব উদ্যোগ সফল না হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমআই/টিএ