যন্তর-মন্তর ২.০: বিক্ষোভ ঠেকাতে মরিয়া মোদি সরকার
ছবি: সংগৃহীত
০১:১৩ পিএম | ১০ অক্টোবর, ২০২৬
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে জেন-জিদের ‘যন্তর-মন্তর ২.০’ আন্দোলন ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। বিক্ষোভ ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। দেশটির নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ক্যাম্পেইন ফর জুডিশিয়াল প্রোটেস্ট’ (সিজেপি) আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা প্রায় ৫০০ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এমনকি ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক এবং দলটির আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বহনকারী উড়োজাহাজ দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই সেখানে প্রবেশ করে পুলিশ। পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরুর আগেই তাদের আটক করা হয়।
অন্যদিকে, গুরুগ্রাম থেকে আটক করা হয়েছে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ধ্রুব রাঠীকেও। রাজধানী দিল্লির সংলগ্ন হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রাম এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসভবন থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় চলছে ধরপাকড়। শহরের মোড়ে মোড়ে সশস্ত্র পুলিশের তল্লাশি, পাশাপাশি ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে। বন্ধ রাখা হয়েছে ৪৫টি মেট্রো স্টেশন; বাতিল করা হয়েছে শত শত ট্রেন। অন্য রাজ্য থেকে বিক্ষোভকারীদের দিল্লিতে প্রবেশ ঠেকাতেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।
আন্দোলন ঠেকাতে গতকাল শুক্রবার থেকেই দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দিল্লি পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনীর ২৩ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন পুরো শহরে।
এর আগে, মেট্রো ও রেল চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। রাজধানীর ৪৫টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন পথও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে কয়েক শ দূরপাল্লার ও লোকাল ট্রেন।
স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে অডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য জনপথ-কর্তব্য পথ ক্রসিংয়ের চারপাশে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।
শহরের বিভিন্ন মোড়ে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। যন্তর-মন্তরে স্থাপন করা হয়েছে সাত স্তরের ব্যারিকেড। বাসে বাসে চালানো হচ্ছে তল্লাশি; ড্রোন দিয়েও চলছে নজরদারি। যন্তর-মন্তরের আশপাশে সন্দেহভাজনদের আটক করে গাড়িতে তোলা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ পরিস্থিতির সমালোচনা করেছেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস। তিনি বলেন, এটা কোনো সাধারণ অবরোধ নয়। পুরো শহরকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। অমিত শাহ পুরো শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছেন। এমনকি আমার মতো একজন সংসদ সদস্যও দিল্লির রাস্তায় স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না।
তিনি আরও বলেন, আমাকে অন্তত ছয়টি জায়গায় আটকে দেওয়া হয়েছে। একে কি গণতন্ত্র বলে? এমনকি যুদ্ধকবলিত কোনো দেশেও এমন পরিস্থিতি দেখা যায় না।
প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকা সংশোধনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি।
কেএন/এসএন