© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

সাহেদের রায় সমাজের ভদ্রবেশী প্রতারকদের জন্য দৃষ্টান্ত: আদালত

শেয়ার করুন:
সাহেদের রায় সমাজের ভদ্রবেশী প্রতারকদের জন্য দৃষ্টান্ত: আদালত
own-reporter
০৫:৪৬ পিএম | ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

অস্ত্র আইনে করা মামলায় রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত এ আদেশ দেন।

রায় ঘোষণার আগে রায় পড়ার শুরুতেই আদালত সাহেদের বিষয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। বিচারক রায় ঘোষণার সময় বলেন, “আমার কাছে খুবই আশ্চর্যের বিষয় হলো, মামলাটি চলার সময়ে সাহেদ আদালতকে বলেন, ‘এই গাড়ি আমার না, এই গাড়ি আমি চিনি না’। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারলাম ২০ লাখ টাকা কিস্তিতে গাড়িটি কিনেছিলেন তিনি। এই ব্যাপারে একবারের জন্যও তার আইনজীবীরা কথা বলেন না। এটা খুবই অবাক করার কথা। তাই জানা সত্ত্বেও আদালতের কাছে সাহেদের মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও অস্ত্র গাড়িতে রাখার বিষয়টি প্রমাণিত হাওয়ায় সে কোনও অনুকম্পা পেতে পারে না।’

বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ বলেন, সাহেদ একজন ভদ্রবেশী ধুরন্ধর প্রতারক। তাকে ক্ষমা করা যায় না। তাই সাহেদের বিরুদ্ধে আদালতে দেয়া ১১ সাক্ষীর সাক্ষ্য আমলে নিয়ে তাকে দোষী সাবস্ত্য করলাম।

আদালত রায়ের পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, ‘আমাদের এই সমাজে সাহেদের মতো আরও ভদ্রবেশী লোক রয়েছে। এই মামলায় রায় যাদের জন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে।’

এর পরপরই বিচারক বিদেশি পিস্তল রাখায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯ (এ) ধারায় সাহেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এছাড়া অস্ত্র আইনের ১৯ (এফ) ধারায় তার সাত বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। উভয় সাজা একসঙ্গে চলবে বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেন।

রায় ঘোষণার আগে সাহেদকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শোনার পরপরই অনেকটাই ভেঙে পড়েন কাঠগড়ায় থাকা সাহেদ। তাকে বিমর্ষ দেখাচ্ছিল।

এ রায় সমাজে সাহেদের মতো প্রতারকদের জন্য সতর্কবার্তা বলে প্রতিক্রিয়া দেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু। সাহেদের সর্বোচ্চ সাজা হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছেন সাহেদের আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, সাহেদ লঘু পাপে গুরু দণ্ড পেয়েছেন।

করোনা চিকিৎসার নামে হাজারো মানুষের সঙ্গে প্রতারণা ও ভুয়া কোভিড রিপোর্ট দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেন সাহেদ। দেশ থেকে পালানোর সময় গত ১৫ জুলাই সাহেদকে সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর ঢাকায় সাহেদের উত্তরার ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সাহেদের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে পুলিশ।

গত ৩০ জুলাই সাহেদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়। এরপর ২৭ আগস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে সাহেদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয় আদালতে। মাত্র ৮ কার্যদিবসে শেষ হওয়া মামলায় আদালত সাহেদকে সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

আরও পড়ুন অস্ত্র মামলায় রিজেন্টের সাহেদের যাবজ্জীবন

 

টাইমস/এইচইউ

মন্তব্য করুন