© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মেটার নতুন এআই চমক: চোখের চশমাই যখন ব্যক্তিগত সহকারী!

শেয়ার করুন:
মেটার নতুন এআই চমক: চোখের চশমাই যখন ব্যক্তিগত সহকারী!

ছবি: সংগৃহীত

সাব্বির আহমেদ, মোবাইল জার্নালিজম এডিটর-ইন-চিফ
০২:৪১ পিএম | ১২ অক্টোবর, ২০২৬
কল্পনা করুন এমন এক দৃশ্যের—আপনি কেবল চোখের চশমাটি পরে হেঁটে যাচ্ছেন, মুখে নেই কোনো বাড়তি কথা, পকেট থেকে বের করতে হচ্ছে না স্মার্টফোনও। অথচ নিঃশব্দে, চোখের আড়ালেই আপনার জটিল সব কাজ সেরে ফেলছে কেউ একজন! কল্পবিজ্ঞান চলচ্চিত্রের সেই দৃশ্যই এবার বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। চোখের সাধারণ ফ্রেমটিতে এবার যুক্ত হচ্ছে এমন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা কোনো জড় যন্ত্র নয়—সারাক্ষণ ছায়ার মতো পাশে থেকে পালন করবে একজন অতি-বুদ্ধিমান ব্যক্তিগত সহকারীর ভূমিকা। আপনি শুধু মুখে বলবেন, আর চোখের পলকেই একের পর এক কাজ সামলে নেবে সে।

স্মার্টফোনের স্ক্রিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের সার্বক্ষণিক সঙ্গী করতে এবার স্মার্ট চশমায় বড় ধরনের রূপান্তর নিয়ে আসছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ জানিয়েছেন, মেটা চশমায় যুক্ত হচ্ছে অত্যন্ত শক্তিশালী ও সংবেদনশীল ব্যক্তিগত এআই এজেন্ট ‘মিউজ’ (Muse)। এর ফলে সাধারণ চশমাই হয়ে উঠবে ব্যবহারকারীর সার্বক্ষণিক ব্যক্তিগত সহকারী।



মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মেটা ল্যাব ঘুরে সেই আভাস আরো দৃঢ়ভাবে পাওয়া গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিধেয় প্রযুক্তি বা ওয়্যারেবল ডিভাইসে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে মেটা; যার এক বিশাল সমাহার তৈরি হয়েছে তাদের ল্যাবে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির সবশেষ কবজিতে পরার ডিভাইস ‘নিউরাল ব্যান্ড’ ইতোমধ্যে এআই প্রযুক্তির জগতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।বাংলাদেশে প্রথম এই মেটা ডিসপ্লে গ্লাস এবং নিউরাল ব্যান্ডের অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগ হয়েছে এই প্রতিবেদকের। ব্যক্তিগত ব্যবহারের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, এটি কেবল দেখার ডিভাইস নয়, চোখের পলকেই ডিজিটাল নির্দেশ বাস্তবায়নের এক নতুন দিগন্ত। এর বাইরে সম্প্রতি ক্যামেরা ছাড়া শুধুই কথোপকথনের সুবিধাযুক্ত অডিও ওয়্যারেবল চশমাও এনেছে মেটা। আর সপ্তাহ দুয়েক আগে উন্মোচিত তাদের শক্তিশালী এআই এজেন্ট ‘মিউজ’ (Muse) এবার যুক্ত হচ্ছে এই চশমাগুলোতে।



সম্প্রতি The Next Big Thing পডকাস্টে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে জাকারবার্গ জানান, মেটা চশমার আগের অভিজ্ঞতা ছিল কেবল একবার প্রশ্ন করে উত্তর পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। চশমাকে সক্রিয় করতে নির্দিষ্ট করে বলতে হতো "Hey Meta"। তবে এবার সেই সীমাবদ্ধতা ভেঙে চশমাগুলোকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টে আপগ্রেড করা হচ্ছে।



জাকারবার্গ বলেন, "এখন আর নির্দিষ্ট কোনো কমান্ডের মধ্যে আটকে থাকতে হবে না। ব্যবহারকারী নিজের পছন্দমতো যে কোনো নামে ডেকেই চশমায় থাকা এজেন্টের সাথে কথা বলতে পারবেন। আপনি শুধু চশমা পরে কথা বলবেন, আর আপনার এজেন্ট ব্যাকএন্ডের সুরক্ষিত ভার্চুয়াল মেশিনে সব জটিল কাজ নিজে থেকেই সমাধান করে দেবে।"



তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ব্যক্তিগত সহকারীর জন্য স্মার্ট চশমাই হলো পৃথিবীর সবচেয়ে আদর্শ মাধ্যম। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, একমাত্র চশমাই ব্যবহারকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে পুরো দুনিয়াকে দেখতে পায় এবং শুনতে পায়। আপনি যা দেখেন চশমাও তা-ই দেখে, আপনি যা শোনেন চশমাও তা-ই শোনে।

মেটার এই নতুন রূপান্তরে চশমায় থাকা এআই এজেন্ট কোনো রোবটের মতো নয়, বরং একজন বুদ্ধিমান মানুষের মতোই কাজ করবে। ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করে ঘরের বা অফিসের সুরক্ষিত ভার্চুয়াল কম্পিউটারের মাধ্যমে এটি বিভিন্ন কাজ ও নির্দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে।

বিশ্লেষকদের মতে, চশমায় ‘মিউজ’ এজেন্টের অন্তর্ভুক্তি স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারের চিরাচরিত ধারণাই বদলে দেবে। ফ্যাশন ও স্বাভাবিক দৃষ্টির সুরক্ষার পাশাপাশি চোখের চশমাই এখন হয়ে উঠছে ভবিষ্যতের অদৃশ্য অথচ অত্যন্ত দক্ষ ব্যক্তিগত কম্পিউটার ও সহকারী।

মন্তব্য করুন