© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘মাথা নোয়াব না, গোটা দেশ হবে যন্তর মন্তর’, হুঁশিয়ারি আন্দোলনকারীদের

শেয়ার করুন:
‘মাথা নোয়াব না, গোটা দেশ হবে যন্তর মন্তর’, হুঁশিয়ারি আন্দোলনকারীদের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১০:৪০ পিএম | ১২ অক্টোবর, ২০২৬
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। নিরাপত্তার কড়াকড়ি, ব্যারিকেড, ধরপাকড় ও যান চলাচলে বিধিনিষেধের মধ্যে এবার প্রতিবাদের স্থানও বদলে দিল দিল্লি পুলিশ। 

নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে যন্তর মন্তরকে। বিকল্প হিসেবে রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দানকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও বিরোধী শিবিরের আন্দোলন ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। 

আন্দোলনকারীদের হুঁশিয়ারি, প্রতিবাদের জায়গা বদলে দিলেও আন্দোলন থামানো যাবে না। প্রয়োজনে গোটা দেশকেই যন্তর মন্তরে পরিণত করা হবে। এদিকে আন্দোলনের আঁচ পৌঁছেছে সুপ্রিম কোর্টের দরজাতেও।

গত ১০ অক্টোবর দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড়ের পরও আন্দোলন থেকে সরে আসেননি সিজেপির অভিজিৎ দীপক, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর নামে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার প্রশ্নের মুখে পড়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

অভিজিৎ দীপকের হুঁশিয়ারি, যন্তর মন্তরে আন্দোলনের পথ বন্ধ করে দেওয়া হলেও প্রতিবাদ থামবে না। বরং গোটা দেশকেই যন্তর মন্তরে পরিণত করা হবে।

সৌরভ দাসের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা নাগরিকের অধিকার। সেই অধিকার প্রয়োগের পথ আটকে দেওয়ার চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিকভাবেই লড়াই চলবে। আশুতোষ রাঙ্কাও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রশ্নে অনড়।

সোমবার যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের দিন ও সময় নির্ধারণের দাবি জানিয়ে দিল্লি পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছে সিজেপি। সংগঠনটির বক্তব্য, অনুমতি না মিললে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ফলে প্রতিবাদের স্থান বদলের সিদ্ধান্তের পরও সংঘাত থামার লক্ষণ নেই।

১০ অক্টোবরের বিক্ষোভের আগে থেকেই রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন, ব্যারিকেড, যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ এবং বিক্ষোভকারীদের আটকের প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে দিল্লির একাধিক এলাকায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। বিক্ষোভের দিন বহু মানুষকে আটক করা হয়। পরবর্তী দিনগুলোতেও প্রতিবাদস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি অব্যাহত থাকে।

পরিস্থিতি ঘিরে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারির প্রশ্ন সামনে এলেও দিল্লি পুলিশের আনুষ্ঠানিকভাবে রেড অ্যালার্ট জারির বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই আন্দোলন ঠেকাতেই রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

তবে আন্দোলনের আগে ও পরে নিরাপত্তাব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করা হয়েছে। এই কড়াকড়ির প্রয়োজনীয়তা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে যন্তর মন্তরকে সরিয়েছে। নতুন তিনটি স্থান হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দান।

প্রশাসনের যুক্তি, প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ পরিচালনার জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিরোধীদের আশঙ্কা, কেন্দ্রীয় দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক এলাকা থেকে দূরের মাঠে আন্দোলন সরিয়ে দিলে বিক্ষোভের দৃশ্যমানতা ও জনসমর্থন তুলে ধরার সুযোগ কমতে পারে।

সিজেপি, ছাত্র সংগঠন ও বিরোধী দলগুলো যখন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জোরদার করছে, তখনই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও আলোচনা চলছে।

সোমবার রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়্গেসহ বিরোধী নেতারা ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে চেয়েছিলেন। 

কিন্তু প্রধান বিচারপতি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। সংশ্লিষ্ট বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আবেদন জানানোর পথ খোলা রয়েছে বলে জানানো হয়। ফলে সরাসরি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা সফল হয়নি।

বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

১০ অক্টোবরের ধরপাকড়, ১১ অক্টোবরের আদালতের হস্তক্ষেপ এবং ১২ অক্টোবর যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে দিল্লির পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে।

একদিকে প্রশাসনের সামনে নিরাপত্তা ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের সামনে প্রতিবাদের অধিকার বজায় রাখার প্রশ্ন। সিজেপির বার্তা স্পষ্ট—ময়দান বদলালেও আন্দোলন থামবে না।

কেএন/টিএ

মন্তব্য করুন