© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

শান্তিপূর্ণ বিচ্ছেদ চেয়েও আইনি লড়াইয়ে সেলিনা জেটলি

শেয়ার করুন:
শান্তিপূর্ণ বিচ্ছেদ চেয়েও আইনি লড়াইয়ে সেলিনা জেটলি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৫৬ এএম | ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি ও তার স্বামী পিটার হাগের বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধ নতুন করে সামনে এসেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটাতে স্বামীর কাছে শান্তিপূর্ণ বিচ্ছেদের আবেদন জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন অভিনেত্রী। সন্তানদের ভবিষ্যৎ, নিজের সম্পত্তি ও আইনি লড়াইয়ের চাপ নিয়ে সামাজিকমাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

সেলিনা জানান, গত বছরের ১২ অক্টোবর ক্রেডিট কার্ডে কেনা বিমানের টিকিট ও একটি স্যুটকেস নিয়ে মুম্বাইয়ে ফেরেন তিনি। সেই স্যুটকেসে ছিল কিছু নথিপত্র, প্রয়াত মায়ের শাড়ি ও একরাশ কষ্ট। তার কথায়, এটি ছিল জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত।

অভিনেত্রীর ভাষ্যমতে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে তাদের ১৫তম বিবাহবার্ষিকীর উপহার মনে করে ডাকঘর থেকে যে নথি তিনি গ্রহণ করেছিলেন, সেটি আসলে ছিল বিবাহবিচ্ছেদের নোটিশ। প্রথম শুনানিতে বিচারক তাদের নভেম্বর পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ সমঝোতার মাধ্যমে বিচ্ছেদের পথ খুঁজতে সময় দিয়েছিলেন।

সেলিনা জানান, তিনি স্বামীর কাছে অনুরোধ করে বলেছিলেন, তিনি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন আদালতের কাছে নির্যাতন ও মানসিক আঘাতের কথা বলবেন না। সন্তানদের ও ভাইয়ের কথা ভেবে তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে আলাদা হতে পারেন।

আইনি লড়াইয়ের খরচ নিয়েও উদ্বেগের কথা প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। তার দাবি, আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়েছিল তাকে এবং আইনি খরচ চালাতে না পারলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। ১৫ বছরের দাম্পত্য ও চার সন্তানের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই কি সেই মানুষ?

সেলিনার অভিযোগ, পরদিন তাকে পাঠানো একটি আইনি নোটিশে বিয়ের আগের তার সম্পত্তির ওপরও দাবি জানানো হয়। বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তানদের কাছে যেতে চাইলে অস্ট্রিয়া ছেড়ে যেতে পারবেন না বলেও তাকে জানানো হয়েছিল। তার দাবি, অস্ট্রিয়ার যৌথ ব্যাংক হিসাবের অর্থ ব্যবহারের সুযোগ তার ছিল না এবং একই সঙ্গে ভারতে তার প্রাক-বিবাহ সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টার বিষয়টিও তিনি জানতে পারেন।



অভিনেত্রীর দাবি, তার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হতো। সন্তানদের সাধারণ বিষয়ে বকাঝকা করার ঘটনাও রেকর্ড করা হতো, যাতে তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ ও অযোগ্য মা হিসেবে ফুটিয়ে তোলা যায় বলে আশঙ্কা করেছিলেন তিনি।

সেলিনা জানান, ভারতে সন্তানদের নিয়ে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে পড়ার আশঙ্কা এবং নিজের বাড়িতে ফিরতে না পারার কারণে অস্ট্রিয়ার প্রতিবেশীদের সহায়তায় রাত ১টার দিকে তিনি সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর এক সপ্তাহ হোটেলে কাটিয়ে জুম ও ফোনকলের মাধ্যমে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন তিনি।

তার অভিযোগ, প্রাক-বিবাহ সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতে যাওয়ার দিন থেকেই সন্তানদের সঙ্গে তার সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তার এক যমজ সন্তান বার্তা পাঠিয়ে জানায় যে বাবা চিৎকার করে বলছেন মা তাদের ছেড়ে চলে গেছেন।

সেলিনার দাবি, এক বছর পরও সন্তানদের যৌথ হেফাজত কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তার মতে, সন্তানদের প্রভাবিত করা হচ্ছে, তার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে এবং অস্ট্রিয়ার বিভিন্ন বিচারিক এলাকার মধ্যে বারবার স্থানান্তর করা হচ্ছে।

পোস্টের শেষাংশে অভিনেত্রী জানান, তিনি এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছেন এবং এটি এমন একজন মায়ের গল্প যিনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

মূলধারার বলিউড থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর ২০১০ সালে পিটার হাগকে বিয়ে করেন সেলিনা জেটলি। ২০১২ সালে তাদের ঘরে যমজ পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। এরপর ২০১৭ সালে জন্ম নেয় আরও এক জোড়া যমজ সন্তান। গত বছর অস্ট্রিয়ার আদালতে পিটার বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। সেলিনার এই বক্তব্যগুলো তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টের অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে পিটার হাগের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: এনডিটিভি

এসএ/এসএন


মন্তব্য করুন