© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হুতি হামলায় নিরাপত্তাঝুঁকিতে সৌদি আরবে যাওয়া ওমরাহযাত্রীরা

শেয়ার করুন:
হুতি হামলায় নিরাপত্তাঝুঁকিতে সৌদি আরবে যাওয়া ওমরাহযাত্রীরা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:৩৭ এএম | ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে যাওয়া মুসলিমদের কেউ কেউ হুতি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে পড়েছেন। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে অনেকে ভ্রমণ পরিকল্পনাও পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি টার্মিনালে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জন আহত হন। হামলার সময় সেখানে মক্কাগামী সাদা পোশাক পরা বহু মুসল্লি ছিলেন। সৌদি গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের এক ইমামও রয়েছেন, যিনি কয়েক ডজন ওমরাহযাত্রীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। হামলায় আরও কয়েকজন আহত হন।

হুতিরা জানিয়েছে, তারা মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্যবস্তু করবে না। তবে সৌদি আরবের অন্যান্য বিমানবন্দরে হামলা চালাচ্ছে তারা। সৌদি বাহিনীর হামলার জবাবে এসব আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।

হামলার ঘটনায় সৌদি আরবে থাকা মুসল্লিদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। মক্কায় অবস্থানরত জর্ডানের নাগরিক ফাদি আনোয়ার বলেন, কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মোবাইল ফোনে নিয়মিত সতর্কবার্তা আসছে। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

সৌদি কর্মকর্তারা দেশটিকে নিরাপদ বলে আশ্বস্ত করলেও পশ্চিমা কয়েকটি সরকার অধিকাংশ সৌদি বিমানবন্দর ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে। হামলার কারণে দেশটিতে অনেক ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। রিয়াদে স্কুলের পাঠদান অনলাইনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে।

পরিস্থিতির কারণে ওমরাহযাত্রী, ব্যবসায়ী, পর্যটক ও বিদেশি কর্মীদের ভ্রমণেও বিঘ্ন ঘটছে। কেউ কেউ রিয়াদ থেকে ফ্লাইটের বদলে সড়কপথে কাতার, বাহরাইন বা দুবাই যাওয়ার চেষ্টা করছেন। দোহা ও দুবাইগামী সড়ক পরিবহনের ভাড়া দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি।

সুদানের নাগরিক আল আমিন হাসান মোহাম্মদ জানান, রিয়াদে হামলার সময় তিনি সৌদি আরবে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ছিলেন। হামলার পর তিনি ও প্রতিবেশীরা ঘর থেকে বের হয়ে উদ্বেগের মধ্যে একে অপরের সঙ্গে কথা বলেন। তার কয়েকজন পরিচিত রিয়াদ হয়ে যাত্রার পরিকল্পনা বাতিল করে জেদ্দা থেকে নৌপথে সুদানে ফিরেছেন।

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাতের বিস্তার ঘটেছে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের প্রভাবেও নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও হামলা চালানোর হুমকি দেওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে সরাসরি সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন