শেখ হাসিনার সেই ভিডিও তাহসিফ ধারণ করেননি: জুলকারনাইন সায়ের
ছবি: সংগৃহীত
০৭:০৩ পিএম | ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের একটি ভিডিও দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পেছনে বিমানবাহিনীর তৎকালীন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির ভূমিকা ছিল বলে ‘গুঞ্জন’ রয়েছে।
তবে ছড়িয়ে পড়া শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিওটি তাহসিফ সাউরি ধারণ করেননি বলে জানিয়েছেন আলজাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের। বাহিনীর একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বরাতে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৩৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।
পোস্টে সায়ের লেখেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হলেও, পতিত স্বৈরাচারপ্রধান হাসিনার দেশ ছাড়ার ভিডিও ফুটেজটি ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাওসিফ সৌরি ধারণ করেননি বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট বাহিনীর একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।’
তবে বিমানবাহিনীর এ কর্মকর্তার বরখাস্তের কারণ হিসেবে তিনি লেখেন, ‘২০২৪ সালের আগস্টে সশস্ত্র বাহিনীর নীতিমালার পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী থেকে একাধিক জুনিয়র অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়। তাদের একজন ছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাওসিফ সৌরি।’
পোস্টে পৃথক আরেকটি ঘটনার উল্লেখ করে সায়ের বলেন, ‘পৃথক এক ঘটনায়, কাছাকাছি সময়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে স্কোয়াড্রন লিডার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে আটক করা হয়। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।’
এর আগে গতকাল বুধবার বিকেলে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফ সাউরির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কুর্মিটোলা বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজে ওঠার দৃশ্যসংবলিত ওই ভিডিওটি তাহসিফ সাউরি ধারণ করেছিলেন বলে সে সময় আলোচনা তৈরি হয়।
গত জুলাইয়ে একটি পডকাস্টে তাহসিফকে প্রশ্ন করা হয়, ওই ভিডিও ধারণ করার কারণে বিমানবাহিনীর চাকরি হারিয়েছিলেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘হতে পারে।’
একই পডকাস্টে ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন নিয়েও তাকে প্রশ্ন করা হয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও নিয়ে তদন্ত করতে গিয়ে বিমানবাহিনীর ভেতরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে তাহসিফের নামও উঠে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে তাহসিফ বলেন, ‘আমার মনে হয়, ‘আমার দেশ’ যে প্রতিবেদনটি করেছে, এটা তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা সার্ভ করছে।’
এদিকে গত বছরের ৪ আগস্ট ‘আমার দেশ’-এ প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর এর প্রতিবাদ জানায় আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। প্রতিবাদলিপিতে সংস্থাটি জানায়, প্রতিবেদনে তাহসিফসহ বিমানবাহিনীর দুই কর্মকর্তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আইএসপিআর জানায়, বাস্তবে ওই দুই কর্মকর্তাকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিমানবাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালার আওতায় যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অবসরে পাঠানো হয়েছে। এর সঙ্গে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। সেদিন সামরিক হেলিকপ্টার ও উড়োজাহাজে তার দেশত্যাগের বিভিন্ন দৃশ্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এরমধ্যে গোপনে ধারণ করা সেই ভিডিও ঘিরে পরবর্তী সময়ে নানা আলোচনা হয়।
এমআর/টিএ