© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনঅনিয়ম, বলপ্রয়োগ ও ব্যালটে আগাম সিল মারার অভিযোগ জামায়াতের

শেয়ার করুন:
অনিয়ম, বলপ্রয়োগ ও ব্যালটে আগাম সিল মারার অভিযোগ জামায়াতের

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:২৪ পিএম | ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, বলপ্রয়োগ, দলীয়করণ ও ব্যালটে আগাম সিল মারার অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব অভিযোগ তোলেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার উপস্থিত ছিলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়া এবং কেন্দ্রে যাওয়ার আগেই ভোট দেয়া হয়ে গেছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। এছাড়া ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্বাচনী এজেন্টদের দায়িত্বে বাধা দেয়া এবং দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র না থাকার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় আমরা গভীর উদ্বিগ্ন।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, সরকারদলীয় শীর্ষ স্থান থেকে এ উপনির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ দাবি করা হলেও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে দাবি করা বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় এবং এটি জনগণকে বিভ্রান্ত করতে পারে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাইরুজ ইসলামের বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরও তাকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি। নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে তাঁকে সরানোর দাবি জানানো হয়েছিল।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। এমনকি একজন নারী ভোট দিতে গিয়ে শোনেন তার ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে—এমন ঘটনার ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে বিশেষভাবে ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কাজ করলে তাদের চাকরি ঝুঁকিতে পড়বে। এর মাধ্যমে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা চালানো এবং ‘ধানের শীষ’ প্রতীক রঙিনভাবে ব্যবহারের ছবি ইসি-র কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া আমাদের নেতাকর্মীদের মারধর, নারী ভোটারদের বাধা দেওয়া এবং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের পরিচয়পত্র বা ব্যাজ ছিল না। প্রশ্ন তোলা হলে তারা যথাযথ পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। এছাড়া কয়েকটি ব্যালট বইয়ের মুড়িতে আগাম সিল ও স্বাক্ষর করে রাখার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা নিয়মবহির্ভূত এবং এর মাধ্যমে জাল ভোটের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী এলাকায় অর্থ বিতরণের খবরও পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বেশি থাকলেই নির্বাচন নিরপেক্ষ হয় না। তবে ভোটারদের নিরাপত্তা, জাল ভোট প্রতিরোধ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর কার্যকর ভূমিকা থাকতে পারত।

সবশেষে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, একটি উপনির্বাচনেই যদি অনিয়মের অভিযোগ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা না যায়, তবে ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কীভাবে নিরপেক্ষ হবে—তা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যায়।

এমআর/টিএ  

মন্তব্য করুন