জনপ্রিয় শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায়ের জন্মদিন আজ
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৪১ পিএম | ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
বাংলা শিশুসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় নাম সুকুমার রায়। ছড়া, রম্যরচনা ও শিশুসাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য আজও পাঠকের মনে জায়গা করে আছেন তিনি। বাংলা সাহিত্যে ননসেন্স ছড়ার প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত এই সাহিত্যিক একাধারে লেখক, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার ও সম্পাদক ছিলেন। আজ ৩০ অক্টোবর তার জন্মদিন।
১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় এক ব্রাহ্ম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সুকুমার রায়। তার বাবা ছিলেন জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী ও সুরকার উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। আর তার ছেলে খ্যাতিমান চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়। তিন প্রজন্মের এই পরিবার বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
সুকুমার রায়ের আদিনিবাস বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমার বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদি উপজেলার মসূয়া গ্রামে। তার মা বিধুমুখী দেবী ছিলেন ব্রাহ্মসমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের মেয়ে।
বাঙালি নবজাগরণের স্বর্ণযুগে বেড়ে ওঠা সুকুমার রায়ের সাহিত্যিক প্রতিভা বিকাশে পারিবারিক পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বাবা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ছিলেন শিশুতোষ গল্প ও জনপ্রিয় বিজ্ঞানবিষয়ক লেখক। পাশাপাশি চিত্রশিল্প, সংগীত ও জ্যোতির্বিদ্যায়ও তার আগ্রহ ছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গেও উপেন্দ্রকিশোরের ঘনিষ্ঠতা ছিল। রবীন্দ্রনাথের সান্নিধ্য সুকুমার রায়ের চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতাকে প্রভাবিত করেছিল।
সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি ব্রাহ্মসমাজের ইতিহাস ও আদর্শ ছোটদের কাছে সহজভাবে তুলে ধরার উদ্যোগও নিয়েছিলেন তিনি। এ উদ্দেশ্যে ‘অতীতের কথা’ নামে একটি কাব্য রচনা করেন। ব্রাহ্মসমাজের ইতিহাস সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা এই রচনাটি পরে পুস্তিকা আকারে প্রকাশিত হয়।
স্বল্পায়ু জীবনে বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন সুকুমার রায়। ১৯২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে মারা যান তিনি। তবে তার সৃষ্টিশীলতা ও সাহিত্যকর্ম প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাঠকের কাছে সমানভাবে সমাদৃত।
এসএ/টিএ