© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রোজেশিয়া সমস্যায় আক্রান্ত সাই পল্লবী

শেয়ার করুন:
রোজেশিয়া সমস্যায় আক্রান্ত সাই পল্লবী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৫৩ পিএম | ৩০ অক্টোবর, ২০২৬
‘রামায়ণ’ সিনেমাকে কেন্দ্র করে চলা আলোচনার মাঝে অভিনেত্রী সাই পল্লবীর একটি পুরোনো সাক্ষাৎকার নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যেখানে তিনি নিজের ত্বকের ব্রণ বা লালচে দাগ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা খোলামেলাভাবে শেয়ার করেছিলেন। পর্দায় কিংবা বাস্তব জীবনে সবসময় স্বাভাবিক চেহারায় থাকতে পছন্দ করেন এই অভিনেত্রী। সাই পল্লবীর ভাষ্যমতে, মুখে ব্রণ থাকা সত্ত্বেও দর্শক যখন তাকে আপন করে নিয়েছিলেন, তখনই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, প্রকৃত সৌন্দর্য আসলে আত্মবিশ্বাসের মধ্যেই নিহিত। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, ব্রণ ও রোজেশিয়া কি একই সমস্যা? এই রোগ চেনার উপায় কী এবং এর চিকিৎসা বা কেমন?

রোজেশিয়া মূলত মুখের ত্বকের একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত সমস্যা। সাধারণত গাল, নাক, কপাল ও থুতনিতে এর উপসর্গ দেখা যায়। মুখের ত্বক অনেকক্ষণ ধরে লাল হয়ে থাকা, ঘন ঘন মুখে গরম ভাব অনুভূত হওয়া, ত্বকের ওপর সূক্ষ্ম রক্তনালি ভেসে ওঠা এবং ব্রণের মতো ছোট ছোট দানা গজানো এই রোগের পরিচিত লক্ষণ। আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ত্বকে জ্বালাপোড়া, খোঁচা লাগার মতো অনুভূতি কিংবা অতিরিক্ত সংবেদনশীলতার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখে ব্রণের মতো গোটা দেখা দিলে, মুখ বারবার লাল হয়ে গেলে বা গরম লাগলে রোজেশিয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে শুধু লক্ষণ দেখে নিজে নিজে রোগ নির্ণয় করা একদমই উচিত নয়।

মুখে দানা বা ফুসকুড়ি দেখলেই অনেকেই সেগুলোকে সাধারণ ব্রণ বলে ভুল করেন। অথচ এই দুটি সমস্যার মধ্যে বেশ বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। সাধারণ ব্রণ মূলত রোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত তেল উৎপাদন এবং প্রদাহের কারণে হয়ে থাকে। এতে সাধারণত ব্ল্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস ও নানা ধরনের ব্রণ দেখা যায়। অন্যদিকে, রোজেশিয়ার ক্ষেত্রে মুখের লালচে ভাব, বারবার ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, সূক্ষ্ম রক্তনালি প্রকাশ পাওয়া এবং প্রদাহযুক্ত দানা বেশি দেখা যায়। সাধারণত রোজেশিয়ার সমস্যায় ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডস থাকে না।

এ তফাতটি জানা খুবই জরুরি, কারণ সাধারণ ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় এমন কিছু প্রসাধনী বা ওষুধ রোজেশিয়ায় আক্রান্ত ত্বকে জ্বালা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই দীর্ঘ সময় ধরে মুখ লাল থাকলে, ত্বকে অস্বস্তি হলে বা ব্রণের মতো দানা উঠলে অবশ্যই একজন ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

রোজেশিয়ার নির্দিষ্ট কারণ এখন পর্যন্ত পুরোপুরি জানা না গেলেও অতিরিক্ত রোদে থাকা, বেশি গরম, মানসিক চাপ, ঝাল ও মশলাদার খাবার এবং মদ্যপানের কারণে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এর উপসর্গ বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই কারণে সমস্যা বাড়ে না। কোন পরিস্থিতিতে মুখ লাল হচ্ছে বা ত্বকে জ্বালা করছে, তা খেয়াল রাখলে কারণগুলো চিহ্নিত করা সহজ হয়। যেমন, রোদে যাওয়ার পর, গরম পানিতে গোসল করার পর কিংবা ঝাল খাবার খাওয়ার পর কারও কারও মুখের লালচে ভাব বেড়ে যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিনা কারণে কোনো খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া ঠিক নয়। এর পাশাপাশি নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং ত্বকের উপযোগী মৃদু প্রসাধনী বেছে নেওয়াও অত্যন্ত জরুরি।

রোজেশিয়া পুরোপুরি নিরাময় করার নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তবে সঠিক চিকিৎসায় এর উপসর্গগুলো সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। রোগের প্রকোপ ও তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক ত্বকে ব্যবহারের ওষুধ, খাওয়ার ওষুধ কিংবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে লেজার থেরাপির পরামর্শ দিতে পারেন। ত্বকের সুরক্ষায় মৃদু ক্লিনজার, সুগন্ধিহীন ময়েশ্চারাইজার এবং রোদে সুরক্ষিত রাখার উপযোগী সানস্ক্রিন ব্যবহার করা যেতে পারে। ত্বকে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে এমন স্ক্রাব, কড়া রাসায়নিকযুক্ত প্রসাধনী এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। অন্য কারও প্রেসক্রিপশনের ওষুধ নিজের ত্বকে প্রয়োগ করাও মারাত্মক ভুল।

রোজেশিয়ার প্রভাব কেবল ত্বকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, অনেক সময় এর কারণে চোখেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। চোখে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া, পানি পড়া, চোখে কিছু আটকে রয়েছে এমন অনুভূতি কিংবা চোখের পাতার চারপাশে লালচে ভাব তৈরি হওয়া এর লক্ষণ। চোখে দীর্ঘস্থায়ী কোনো অস্বস্তি অনুভূত হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া দরকার। বিশেষ করে চোখে ব্যথা, আলো সহ্য করতে সমস্যা বা দৃষ্টিশক্তিতে কোনো পরিবর্তন আসলে দেরি না করে চিকিৎসা করাতে হবে।

সাই পল্লবীর অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ত্বকের কোনো সমস্যা মানুষের সৌন্দর্য বা ব্যক্তিত্বের মাপকাঠি হতে পারে না। বিশেষ করে বিনোদন জগতে নিখুঁত ত্বক নিয়ে যে ধরনের অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি হয়, তার চাপে অনেকেই বিনা কারণে হীনম্মন্যতায় ভোগেন। অথচ নিজের স্বাভাবিক রূপকে মেনে নেওয়া এবং প্রয়োজনে সঠিক চিকিৎসা নেওয়া, দুটোই সমানভাবে চলতে পারে। মুখে ব্রণ, লালচে ভাব বা দীর্ঘমেয়াদি অস্বস্তি লুকিয়ে না রেখে তার মূল কারণ জানা আবশ্যক। লক্ষ্য ত্রুটিহীন ত্বক পাওয়া নয়, বরং সুস্থ থাকা এবং নিজের চেহারা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হওয়া। সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসায় ত্বকের অস্বস্তি কমানো সম্ভব, যা মানুষের আত্মবিশ্বাসও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

কেএন/এসএন

মন্তব্য করুন