© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মাজার বস্তিতে যাওয়ার আগে উত্তরার বারে দেড় ঘণ্টা ছিলেন তাহসিফ, সাথে ছিল দীপ ও এক তরুণী

শেয়ার করুন:
মাজার বস্তিতে যাওয়ার আগে উত্তরার বারে দেড় ঘণ্টা ছিলেন তাহসিফ, সাথে ছিল দীপ ও এক তরুণী

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:২৮ পিএম | ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। টঙ্গীর মাজার বস্তিতে যাওয়ার আগে রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন এক তরুণী এবং তার জুনিয়র ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। ওই তরুণীকে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাহসিফের বান্ধবী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে যান তাহসিফ ও তার বান্ধবী। তারা একটি মোটরসাইকেলে এসেছিলেন। কিছুক্ষণ পর আরেকটি মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান দীপ।

মোটরসাইকেল পার্ক করে তিনজনই রেস্টুরেন্টের ভেতরে চলে যান।

আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও তার বান্ধবী লিফটে উঠছেন। এ সময় তারা দীপের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। পরে হেলমেট পরা অবস্থায় দীপ সেখানে পৌঁছালে তিনজন একসঙ্গে বারের লিফটে ওঠেন। সেখানে তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থানের পর আবার মোটরসাইকেলে করে বেরিয়ে যান।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, পরে তাহসিফ সাউরির বান্ধবীকে তার বাসায় নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাহসিফ ও দীপ যান টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায়।

তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে ওই রাতের চলাচল ও বিভিন্ন স্থানে তার অবস্থানের তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। এ বিষয়ে কোনো মন্তব‍্য করেননি তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

এদিকে শনিবার তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার দীপের ৪ দিনের রিমান্ড আদেশ দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত।

এর আগে, এদিন বেলা সোয়া ২ টার দিকে দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আসামির সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, নিহত কে এম তাহসিফ সাউরি বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি তুরাগ থানার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। গত ২৭ অক্টোবর আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টায় আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ তাকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। 

পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় জরুরি সেবা '৯৯৯'-এর মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদীতে একটি অজ্ঞাত মরদেহ ভাসছে। পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল করার সময় নিহতের ট্রাউজারের পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করে।

পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ঘটনার দিন নিহত সাউরিকে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিল আসামি দীপ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ স্বীকার করে যে নিহত সাউরি তার সিনিয়র বড় ভাই ছিলেন।

কেএন/টিএ

মন্তব্য করুন