© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

দুই হাত হারিয়েও থেমে যাননি রাব্বি, পা দিয়ে লিখে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫

শেয়ার করুন:
দুই হাত হারিয়েও থেমে যাননি রাব্বি, পা দিয়ে লিখে এইচএসসিতেও জিপিএ-৫

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:০২ এএম | ০১ নভেম্বর, ২০২৬
২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রফিকুল ইসলাম রাব্বি স্কুলে যাওয়ার পথে বৈদ্যুতিক তারে আটকা পড়ে হারিয়েছিলেন দুই হাত। সাময়িকভাবে থমকে যায় তার জীবনের গতি। কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে রাব্বি হার মানিয়েছেন তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে। হাত না থাকলেও পা দিয়ে লিখে এসএসসির পর এবার এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম রাব্বি এবার চট্টগ্রাম সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তিনি সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বজলুর রহমানের ছেলে।

এর আগে, ২০২৪ সালে সে একই এলাকায় হাজী তোবারক আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল।

রাব্বির বাবা বজলুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর রাব্বির লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে আসছে আইসিডিডিআরবি গবেষক ডাক্তার ফেরেদৌস কাদেরী। এছাড়া ওসমান স্যার নামে এক শিক্ষক তাকে ফ্রিতে কোচিংয়ে পড়াতেন।

দুর্ঘটনার পর অনেক ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় চিকিৎসা করিয়ে ছেলেকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

দুর্ঘটনার পর অনেকেই ভেবেছিল রাব্বির পড়াশোনা আর হবে না। তবে অদম্য রাব্বি হার মানতে রাজি ছিল না। ‎দুর্ঘটনার পর প্রথমে মুখ দিয়ে লেখা রপ্ত করেন। একপর্যায়ে সে একের পর এক পরীক্ষায় সাফল্য পেতে থাকে। কিন্তু আরও এগিয়ে যেতে পা দিয়েও লেখা আয়ত্ত করে ‍সে। ‎রাব্বি বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর তীব্র শারীরিক যন্ত্রণায় বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। হায়াত ছিল বিধায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছি। ‍আমার ইচ্ছা বিজ্ঞানী হওয়ার। সবার কাছে দোয়া চাই।’

ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল আনোয়ার বলেন, ‘রাব্বির এই সফলতার পেছনে রয়েছে তার অদম্য চেষ্টা ও আত্মবিশ্বাস। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও সে কখনো নিজেকে প্রতিবন্ধী মনে করেনি। বরং অন্যরা যা পারে, সেও তা পারবে এমন দৃঢ় বিশ্বাস ছিল তার। আজ সেই বিশ্বাস ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই তার এই সাফল্য। রাব্বির এমন অর্জনে আমরাও গর্বিত।’

একেএস/টিএ

মন্তব্য করুন