© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

৫৩ বছরে পা রাখলেন বলিউডের আইকন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন

শেয়ার করুন:
৫৩ বছরে পা রাখলেন বলিউডের আইকন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৮:১৯ পিএম | ০১ নভেম্বর, ২০২৬
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে শুরু, এরপর বলিউড পেরিয়ে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান তৈরি। অভিনয়, ফ্যাশন ও ব্যক্তিত্বের বৈচিত্র্যে দীর্ঘদিন ধরে দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছেন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। সাবেক এই বিশ্ব সুন্দরী আজ ১ নভেম্বর ৫৩ বছরে পা রাখলেন। জন্মদিনে ফিরে দেখা যায় তার বর্ণিল অভিনয়জীবনের নানা অধ্যায়, বিশেষ করে এমন কিছু চরিত্র, যেগুলো তাকে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে দিয়েছে।

১৯৭৩ সালের ১ নভেম্বর ভারতের কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালুরুতে জন্ম ঐশ্বরিয়ার। মডেলিং দিয়ে পেশাগত জীবন শুরু করেন তিনি। ১৯৯৪ সালে বিশ্ব সুন্দরীর মুকুট জয়ের পর আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান। এরপর চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় নতুন যাত্রা। ১৯৯৭ সালে মণি রত্নম পরিচালিত তামিল সিনেমা ‘ইরুভার’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। একই বছর ‘অউর পেয়ার হো গয়া’ দিয়ে হিন্দি চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা ধরনের চরিত্রে দেখা গেছে ঐশ্বরিয়াকে। কখনো প্রেমে মগ্ন পার্বতী, কখনো প্রাণবন্ত শার্লি, আবার কখনো আত্মপরিচয়ের সন্ধানে থাকা বিনোদিনী—প্রতিটি চরিত্রেই নিজের অভিনয়দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।



১৯৯৯ সালে ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকের বিশেষ নজর কাড়েন ঐশ্বরিয়া। এরপর ‘তাল’, ‘মোহাব্বতে’, ‘দেবদাস’, ‘ধুম ২’, ‘গুরু’ ও ‘যোধা আকবর’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন। এসব ছবির মধ্যে কয়েকটি চরিত্র বিশেষভাবে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে।

সঞ্জয় লীলা বানসালি পরিচালিত ‘দেবদাস’ সিনেমায় শাহরুখ খানের বিপরীতে পার্বতী বা পারু চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে তার আবেগঘন অভিনয় ও পর্দায় উপস্থিতি দর্শকের প্রশংসা পায়। চরিত্রটির প্রেম, অভিমান ও বেদনা ফুটিয়ে তুলে স্মরণীয় হয়ে আছেন তিনি।

১৯৯৯ সালের ‘জোশ’ সিনেমায় শার্লি ডায়াস চরিত্রেও দর্শকের মন জয় করেন ঐশ্বরিয়া। গোয়ার প্রাণবন্ত তরুণীর চরিত্রে তার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও সাজপোশাক আলাদা করে নজর কেড়েছিল। ছবিটির ‘মেরে খেয়ালোঁ কি মালিকা’ গানটিও দর্শকের কাছে পরিচিত হয়ে আছে।

একই বছর মুক্তি পাওয়া ‘তাল’ সিনেমায় মানসী চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। সুভাষ ঘাই পরিচালিত ছবিটিতে অনিল কাপুর ও অক্ষয় খান্নার সঙ্গে পর্দা ভাগ করেন ঐশ্বরিয়া। অভিনয়ের পাশাপাশি তার নাচ ও গানের দৃশ্যও দর্শকের প্রশংসা পায়। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া ‘মোহাব্বতে’ সিনেমায় মেঘা চরিত্রে তার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত। তবে গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে চরিত্রটির প্রভাব ছিল স্পষ্ট।



২০০৩ সালে ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত বাংলা সিনেমা ‘চোখের বালি’তে বিনোদিনী চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত ছবিটিতে এক শিক্ষিত তরুণ বিধবার জীবন, আকাঙ্ক্ষা ও আত্মপরিচয়ের সন্ধান তুলে ধরা হয়েছে। সমাজের প্রচলিত বিধিনিষেধের মধ্যে নিজের অবস্থান খুঁজে ফেরার জটিলতায় বিনোদিনী চরিত্রটি ছিল ঐশ্বরিয়ার অভিনয়জীবনের অন্যতম ব্যতিক্রমী সংযোজন। সংযত অভিনয়ের মাধ্যমে চরিত্রটির আবেগ, বুদ্ধিমত্তা ও দ্বন্দ্ব ফুটিয়ে তোলেন তিনি।

২০০৬ সালের ‘উমরাও জান’ সিনেমায় আমিরান চরিত্রে অভিনয় করেন ঐশ্বরিয়া। এর আগে ১৯৮১ সালের সংস্করণে একই চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রেখা। নতুন সংস্করণে নিজের মতো করে চরিত্রটি তুলে ধরেন ঐশ্বরিয়া। ছবিটিতে তার অভিনয়ের পাশাপাশি নাচ ও পোশাকও আলোচনায় আসে।

বলিউডের বাইরেও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন ঐশ্বরিয়া। ‘ব্রাইড অ্যান্ড প্রেজুডিস’, ‘দ্য মিস্ট্রেস অব স্পাইসেস’, ‘প্রভোকড’, ‘দ্য লাস্ট লিজিয়ন’ ও ‘দ্য পিংক প্যান্থার ২’-এর মতো ইংরেজি ভাষার সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। এসব কাজের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছেও পরিচিতি পেয়েছেন এই অভিনেত্রী।

কান চলচ্চিত্র উৎসবেও দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ ঐশ্বরিয়া। ২০০২ সালে ‘দেবদাস’ সিনেমার প্রদর্শনীতে প্রথমবার উৎসবে অংশ নেন তিনি। পরের বছর উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এরপর থেকে কান উৎসবে তার উপস্থিতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নিয়মিত আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন একাধিক সম্মাননা। ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ ও ‘দেবদাস’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। ২০০৯ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। ২০১২ সালে ফ্রান্স সরকারও তাকে ‘অর্ডার অব আর্টস অ্যান্ড লেটার্স’ সম্মাননা দেয়।

পর্দার বাইরেও ঐশ্বরিয়ার ব্যক্তিজীবন নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। সালমান খান ও বিবেক ওবেরয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে একসময় নানা আলোচনা ছিল। পরে ২০০৭ সালে অভিনেতা অভিষেক বচ্চনকে বিয়ে করেন তিনি। ২০১১ সালের ১৬ নভেম্বর তাদের ঘরে জন্ম নেয় মেয়ে আরাধ্যা বচ্চন।

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে চলচ্চিত্রের রুপালি পর্দা, সেখান থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গন- ঐশ্বরিয়ার পথচলা নানা অভিজ্ঞতা ও সাফল্যে ভরা। সময়ের সঙ্গে বদলেছে তার চরিত্র, সাজ ও পর্দায় উপস্থিতি। তবে অভিনীত বেশ কিছু চরিত্র এখনো দর্শকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। জন্মদিনে সেই দীর্ঘ পথচলাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এসএ/টিএ

মন্তব্য করুন