© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কুড়িগ্রামে হাতের ভেতরে কাচ রেখেই সেলাই, চিকিৎসক বললেন ‘স্যরি’

শেয়ার করুন:
কুড়িগ্রামে হাতের ভেতরে কাচ রেখেই সেলাই, চিকিৎসক বললেন ‘স্যরি’

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৫৫ পিএম | ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাতের ক্ষতস্থানে কাচের টুকরা রেখেই সেলাই করে এক রোগীকে বাড়ি পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ৩৫ দিন পর অন্য একটি ক্লিনিকে অস্ত্রোপচার করে দুটি কাচের টুকরা বের করা হয়েছে।

তবে ঘটনাটিকে ‌‘ভুলবশত’ হয়েছে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী সাইদার মিয়া উপজেলার মজিদের পাড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি অন্যের জমিতে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ভাঙা কাচে তার বাম হাত গুরুতরভাবে কেটে যায়। এতে হাতের ভেতরে কাচের টুকরা ঢুকে যায়। আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সাইদারের অভিযোগ, সেখানে শয্যা ও জায়গা খালি না থাকার কথা জানিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়নি। পরে হাতের ক্ষতস্থানে সেলাই দিয়ে ভেতরে কাচ রেখেই বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এরপর এক মাসের বেশি সময় হাতের ভেতরে কাচের টুকরা নিয়ে যন্ত্রণায় দিন কাটে তার। ক্ষত না শুকানোয় পরে তিনি স্থানীয় এক‌টি ক্লিনিকে চিকিৎসক ডা. মৃণাল কান্তি রায়ের শরণাপন্ন হন। সেখানে এক্স-রে পরীক্ষায় হাতের ভেতরে দুটি কাচের টুকরা ধরা পড়ে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেগুলো অপসারণ করা হয়।

সাইদার মিয়া বলেন, ‘বিদ্যুতের শক খেয়ে পড়ে গিয়ে ঘরের ভেতরে গ্লাসে আঘাত পাই। স্থানীয় লোকজন আমাকে চিলমারী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কোনো রকম চিকিৎসা দিয়ে হাতের ভেতরে গ্লাস রেখেই ফেরত পাঠানো হয়। পরে সুস্থ না হওয়ায় এক মাসের বেশি সময় পর এক্স-রে করে দেখি, ভেতরে দুটি কাচের টুকরা রয়েছে। এরপর অপারেশন করে সেগুলো বের করা হয়েছে।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই হাসপাতালে কোনো রোগীকে ভালোভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় না। এমন অবহেলার দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। তবে অস্ত্রোপচার করা চি‌কিৎসকের নাম বলতে পারেন‌নি তি‌নি।

এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ওটা ভুলবশত হয়ে গেছে। এজন্য স্যরি ভাই। রোগীকে বলেন চিকিৎসা করাতে। আমি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছি।’

এমআই

মন্তব্য করুন