© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

২০২৯ সালে মোদি সরকারের পতন: অভিজিৎ দীপকে

শেয়ার করুন:
২০২৯ সালে মোদি সরকারের পতন: অভিজিৎ দীপকে

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৫৪ পিএম | ০৮ নভেম্বর, ২০২৬
২০২৯ সালের ভারতের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি ও এনডিএ জোট ক্ষমতা হারাবে বলে মন্তব্য করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। একই সঙ্গে সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, নির্বাচনের মাধ্যমেই রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব। তবে এ জন্য নির্বাচনব্যবস্থাকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ রাখতে হবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) কেরালার কোচিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলেন অভিজিৎ। সিজেপির ‘যন্তরমন্তর অ্যাট কোচি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজেন্দ্র ময়দানে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে অভিজিৎ অভিযোগ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারী তরুণদের দমন করছে। সরকারের কাছে জ্ঞানেশ কুমার এত গুরুত্বপূর্ণ কেন, সেই প্রশ্ন তুলে তার পদত্যাগও দাবি করেন তিনি।

দিল্লির যন্তরমন্তরে জাতীয় পতাকা হাতে প্রবেশের ঘটনায় নিজের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ টেনে অভিজিৎ বলেন, ওই ঘটনায় তার সঙ্গে সিজেপির নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘এই তেরঙ্গা উত্তোলনের কারণে আমাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। আমার দুই ভাই সৌরভ ও আশুকেও একই কারণে জেলে যেতে হয়েছে। ভারতে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল ব্রিটিশ শাসনামলে।’

এনডিএ সরকারের সঙ্গে ব্রিটিশ শাসনের তুলনা করে অভিজিৎ বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার মানুষের স্বাধীনতা সংকুচিত করার চেষ্টা করছে। তবে গ্রেপ্তার কিংবা দমন-পীড়ন চালিয়ে তাঁর আন্দোলন থামানো সম্ভব নয় বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অভিজিৎ বলেন, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, কেরালা কিংবা তামিলনাড়ু-দেশের যেখানেই চান আমাকে গ্রেপ্তার করুন। দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে গ্রেপ্তার করলেও আমি আবার ফিরে এসে এই তেরঙ্গা তুলে ধরব।

কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগও তোলেন তিনি। তিনি বলেন, আগে মানুষ কী খাবে, কাকে বিয়ে করবে কিংবা কাকে ভালোবাসবে, তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হয়েছে। এখন মানুষ কাকে ভোট দেবে, সেটিও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

এসআইআরের মাধ্যমে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন অভিজিৎ। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। ভারতের রাষ্ট্রীয় ভিত্তি বি আর আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধী ও জওহরলাল নেহরুর আদর্শের ওপর প্রতিষ্ঠিত বলেও মন্তব্য করেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা।

অভিজিৎ মনে করেন, গত এক দশকে স্তব্ধ হয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর আবারও ফিরে আসছে। যন্তরমন্তরের আন্দোলনের মাধ্যমেই জনগণ তাদের দাবি ও মতামত প্রকাশের সাহস নতুন করে খুঁজে পাচ্ছে।

আরআই/

মন্তব্য করুন