মহানবীকে নিয়ে ব্যাঙ্গ : ইসরাইলেও ম্যাঁক্রোর ছবিতে আগুন
ছবি- সংগৃহিত
বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (স.) কে নিয়ে কটূক্তি ও ব্যাঙ্গচিত্র প্রকাশের প্রতিবাদে ফুঁসছে মুসলিম বিশ্ব। কুয়েত, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তানে চলছে ফ্রান্সের পণ্য বয়কট আন্দোলন। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মুসলিম দেশেও বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এমনকি ইহুদিবাদী ইসরাইলেও শুরু হয়েছে ফ্রান্স বিরোধী বিক্ষোভ।
জেরুজালেম পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার রাতে ইসরাইলের রাজধানী তেলআবিবের জাফা শহরে কয়েকশ মুসলিম জড়ো হয়ে দেশটিতে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত এরিক ডেননের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাঁক্রোর ছবি ও কুশপুতুলে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
এসময় বিক্ষোভকারীরা উত্তেজিত হয়ে বাস ও বিভিন্ন যানবাহনে ভাংচুর চালায়। বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ গুলি ছোড়ে। কিন্তু কেউ হতাহত হয়েছে কিনা জানা যায়নি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলাম ধর্ম ও বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (স.) কে নিয়ে ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শন বন্ধ করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ। বিশ্বনবীকে নিয়ে একটি বিতর্কিত কার্টুন ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে প্রদর্শন করা হচ্ছে। সরকারি পৃষ্টপোষকতায় এই প্রদর্শনী করা হচ্ছে।
এর আগে দেশটির এক শিক্ষক ক্লাসে পাঠদানকালে হযরত মোহাম্মদ (স.) কে নিয়ে বিতর্কিত হিসেবে তুলে ধরেন। এঘটনায় ক্ষুব্ধ এক শিক্ষার্থী শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটিককে ছুরিকাঘাত করলে তিনি মারা যান। ঘটনাস্থলেই পুলিশের গুলিতে নিহত হন ঘাতক শিক্ষার্থী।
পরে ইসলাম ও নবী হযরত মোহাম্মদ (স.) কে নিয়ে ব্যাঙ্গত্মক প্রচারণা শুরু করে বিতর্কিত ম্যাগাজিন ‘শার্লী এবদো’। আর বিতর্কিত এই প্রচারণায় সরাসরি সমর্থন দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাঁক্রো। ইসলামকে নিয়ে কটূক্তিপূর্ণ বক্তব্যও দিয়েছেন ম্যাঁক্রো।
ম্যাঁক্রো’র বক্তব্যের প্রতিবাদে বিভিন্ন মুসলিম দেশে ফ্রান্সের পণ্য বয়কট আন্দোলন শুরু হয়েছে। এমনকি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেব এরদোগান ফরাসি প্রেসিডেন্টকে ‘মানসিক রোগী’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এদিকে এরদোগানের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাতে রোববার ফ্রান্সে নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে দেশটির পররাষ্ট্র বিভাগ। তবে প্রকৃতপক্ষে কি ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ফ্রান্স, তা এখনো জানা যায়নি।
টাইমস/এসএন