© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মায়ের সেবাসহ তিন শর্তে মাদক মামলার আসামি মুক্ত

শেয়ার করুন:
মায়ের সেবাসহ তিন শর্তে মাদক মামলার আসামি মুক্ত

ফাইল ছবি

own-reporter
০৬:৪৭ পিএম | ০৮ নভেম্বর, ২০২০

মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে কারাগারে না পাঠিয়ে প্রবেশনে পরিবারের সঙ্গে থাকার বিরল সুযোগ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে এক্ষেত্রে তিনটি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন আদালত। আইন-আদালতের ভাষায় যাকে বলে ‘প্রবেশন’। তবে মাদক মামলায় প্রবেশনের রায় এটাই বাংলাদেশে প্রথম।

রোববার (৮ নভেম্বর) বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চ একটি মাদক মামলায় এই রায় দেন।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মাদক মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মতি মাতব্বরকে তিনটি শর্তে প্রবেশন দিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে দেড় বছর ধরে তিনি প্রবেশন অফিসারের অধীনে থাকবেন।

শর্তগুলো হলো- ৭৫ বছরের বৃদ্ধা মায়ের যত্ন নিতে হবে। স্কুল পড়ুয়া তিন ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে হবে এবং আইন অনুসারে নির্ধারিত বয়সের আগে মেয়েকে বিয়ে দেয়া যাবে না।

আদালতে এদিন আসামিপক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মো. রুহুল আমীন এবং মো. আসাদ উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. এনামুল হক মোল্লা।

আসামিপক্ষের আইনজীবী শিশির মুহাম্মদ মনির গণমাধ্যমকে বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার আসামি মতি মাতবরের পাঁচ বছরের সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন মামলা করা হয়। হাইকোর্ট আসামির সাজা বহাল রেখে প্রবেশন দিয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রবেশন আইনে হাইকোর্টের দেয়া এটি দ্বিতীয় রায়। তবে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে এটিই প্রথম প্রবেশনের রায়।

যুগান্তকারী এ রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অফিসার মো. আজিজুর রহমান মাসুদ। এসময় প্রবেশন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান মাসুদের তত্ত্বাবধানে আসামি মতি মাতব্বরকে দিয়ে দেন আদালত।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে মতি মাতবরের কাছে ৪১১ এবং অপর এক আসামির কাছ থেকে ৭০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগে ঢাকার কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়। ওই মামলায় ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি মতি মাতবরকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত।

পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১ জুলাই হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন আসামি মতি মাতবর। রিভিশনের রায়ে উচ্চ আদালত তাকে শর্ত সাপেক্ষ্যে প্রবেশন দেন।

 

টাইমস/এসএন

মন্তব্য করুন