খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে শুনানি
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতে শুনানি শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার ৩ নম্বর আদালতের বিচারক সৈয়দ দিলদার হোসেনের আদালতে এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
আদালতে হাজিরা দিতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কারাগার থেকে আদালত প্রাঙ্গণে আসেন খালেদা জিয়া। পরে ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি আদালতে উপস্থিত হন। এরপর ১২টা ৪৫ মিনিটে বিচারক এজলাসে আসেন।
এর আগে ১০ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বিশেষ আদালতে হাজির করার জন্য প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। পরে ২৪ জানুয়ারি এই মামলার শুনানির জন্য কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে হাজির করে কারা কর্তৃপক্ষ। সেদিন প্রয়োজনীয় নথি না থাকায় মামলাটির শুনানির জন্য ৭ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করেন বিচারক।
২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল এ মামলায় খালেদা জিয়া আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।
মামলার অভিযোগপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট এবং মামলা বাতিলের আবেদন করলে প্রায় ৮ বছর নিম্ন আদালতে বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রিট খারিজ করে উচ্চ আদালত খালেদা জিয়াকে দুই মাসের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। একই বছরের ৫ এপ্রিল উচ্চ আদালতের নির্দেশে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান খালেদা জিয়া।
এর আগে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও থানায় ১৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. গোলাম শাহরিয়ার। মামলার তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১৩ মে বিএনপি-জোট সরকারের প্রভাবশালী ৯ মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীসহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. জহিরুল হুদা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা দরপত্রের শর্ত ভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্যাটকোর সঙ্গে চুক্তি সইয়ের ফলে সরকারের ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৭ হাজার ৬১৬ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। এ ছাড়া গ্যাটকোকে ঠিকাদারি কাজ দেওয়ার বিনিময়ে অবৈধভাবে আরাফাত রহমান কোকো ও ইসমাইল হোসেন সায়মন দুই কোটি ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭৩৬ টাকার আর্থিক সুবিধা নেন বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।
২৪ আসামির মধ্যে সাবেক মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, আব্দুল মান্নান ভুইয়া, সাবেক মন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রাহমান কোকো মারা গেছেন। মামলাটিতে বর্তমান আসামির সংখ্যা ২০ জন।
খালেদা জিয়া ছাড়াও মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সাবেক মন্ত্রী এম শামছুল ইসলাম, এমকে আনোয়ার, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সাবেক চেয়ারম্যান কমোডর জুলফিকার আলী, সাবেক মন্ত্রী কর্নেল আকবর হোসেনের (প্রয়াত) স্ত্রী জাহানারা আকবর, দুই ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মন এবং একেএম মুসা কাজল, এহসান ইউসুফ, সাবেক নৌ সচিব জুলফিকার হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) সাবেক সদস্য একে রশিদ উদ্দিন আহমেদ এবং গ্লোবাল এগ্রোট্রেড প্রাইভেট লি.(গ্যাটকো) এর পরিচালক শাহজাহান এম হাসিব, সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী একেএম মোশাররফ হোসেন।
২০ আসামির মধ্যে সম্প্রতি সাবেক মন্ত্রী এমকে আনোয়ার মারা গেছেন।
টাইমস/এইচইউ