© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

প্রধানমন্ত্রীর পদ হারালেন ইমরান খান

শেয়ার করুন:
মোজো ডেস্ক
০২:১২ এএম | ১০ এপ্রিল, ২০২২
অনাস্থা ভোটে হেরে গেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম একজন প্রধানমন্ত্রীকে অনাস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা ছাড়তে হল।

শনিবার (৯ এপ্রিল) রাত ১১টা ৫০ মিনিটে দেশটির জাতীয় পরিষদে অনাস্থা ভোট শুরু হয়।

সারাদিন জাতীয় পরিষদের অধিবেশন তিন চার দফা মুলতুবি হবার পর পাকিস্তানে মধ্যরাতের পর অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় পরিষদের ১৭৪ জন সদস্য তার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে ভোট দেন।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের খবরে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ইমরান খানের বিরুদ্ধে ১৭৪ জন এমপি ভোট দিয়েছেন। ইমরানকে পরাজিত করতে ভোট দরকার ছিল ১৭২টি। 

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাত ১২টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর জাতীয় পরিষদে ভোটাভুটি করানোর বাধ্যবাধকতা ছিল স্পিকারের।

জিও নিউজের খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীকে সরাতে বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারবেন না দাবি করে পাক জাতীয় পরিষদের স্পিকার আসাদ কায়সার নিজের অবস্থান থেকে পদত্যাগ করেছেন।

ইমরান খান ছিলেন পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ক্ষমতাচ্যুতির মধ্য দিয়ে দেশটির নির্বাচিত একজন প্রধানমন্ত্রীও তাঁর মেয়াদ পূর্ণ করতে পারলেন না। শেষমেশ ক্ষমতাচ্যুতই হলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

আর্থিক দুরবস্থা ও ভুল পররাষ্ট্রনীতির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে বিরোধী দলগুলো। এ অনাস্থা প্রস্তাবকে ‘অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে ৩ এপ্রিল খারিজ করে দেন জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার কাসিম খান সুরি। ওই দিনই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেন প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি। এতে চরম রাজনৈতিক সংকটে পড়ে পাকিস্তান।

এ অবস্থায় স্বতঃপ্রণোদিত নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্ট। বিরোধীরাও আদালতের শরণাপন্ন হন। টানা পাঁচ দিনের শুনানি শেষে গত বৃহস্পতিবার অনাস্থা প্রস্তাব খারিজ ও জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন সর্বোচ্চ আদালত। একই সঙ্গে শনিবার অনাস্থা প্রস্তাবের সুরাহার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চ।

মন্তব্য করুন