© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বেরোবিতে ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত তিন

শেয়ার করুন:
বেরোবিতে ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত তিন
own-reporter-rangpur
১০:৩০ এএম | ২৭ মার্চ, ২০১৯

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) আধিপত্য বিস্তার ও ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য ফয়সাল আজম ফাহিন ও সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখের অনুসারীদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দুপুরে ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল আজম, রুবেল হোসেন, মৃতিশ চন্দ্র বর্মণের নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল করে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতা স্মারকে শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করে। এ সময় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ছাত্রলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটি প্রদান না করে এককভাবে আধিপত্য বিস্তার ও কর্মীদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন না করার অভিযোগ তুলে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি তুষার কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখকে বর্জনের ঘোষণা দেয় তারা। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখের অনুসারী কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী রাজিব হোসেন ও তার দুই সহপাঠীর বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ তুলে।

এসময় ফয়সাল আজম ফাহিনের অনুসারী ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সুব্রত ঘোষ ও ফজলে রাব্বি হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। হাতাহাতি শেষে এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় রাজিব হোসেনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। এতে ফাহিন গ্রুপের রাব্বি ও সুব্রত আহত হয়।

পরে আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আবারও যেকোনো সময় সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখ জানান, ক্যাম্পাসে যখন সুষ্ঠু পরিবেশ ও ছাত্রলীগ গোছানো ভাবে চলছিলো তখন একটি অস্থিতিশীল গ্রুপ ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করছে। তারা ছাত্রলীগকে কলুষিত ও প্রধানমন্ত্রীকে বিতর্কিত করতে তারা এমন করছে।

ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল আজম ফাহিন জানান, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক ত্যাগী নেতা তাদের প্রাপ্য এবং সম্মান পাচ্ছে না। কারণ দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ছাত্রলীগে কোন পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেওয়া হচ্ছে না। তারা বিভিন্ন ভাবে ছাত্রলীগকে ভাঙ্গিয়ে সুবিধা নিচ্ছে। যার কারণে বঞ্চিতদের আজ গণজাগরণ ঘটেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক মুহিব্বুল ইসলাম বিষয়ে জানান, মেয়েঘটিত বিষয় নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (চলতি দায়িত্ব) প্রফেসর ড. একে এম ফরিদ উল ইসলাম জানান, ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

টাইমস/এসআর/এইচইউ

মন্তব্য করুন