© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

নারীকে ইয়াবায় ফাঁসানোর মামলায় পাঁচজনকে কারাগারে প্রেরণ

শেয়ার করুন:
নারীকে ইয়াবায় ফাঁসানোর মামলায় পাঁচজনকে কারাগারে প্রেরণ
central-desk
০৯:১৩ পিএম | ০৩ এপ্রিল, ২০১৯

চট্টগ্রামে এক নারীকে ইয়াবায় ফাঁসানোর মামলায় ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পাঁচজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বুধবার চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬–এর বিচারক মঈন উদ্দীন শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো পাঁচ আসামি হলেন- সীতাকুণ্ডের কুমিরার আলী শাহ, তার সহযোগী কামাল উদ্দিন, শাহাব উদ্দিন, ভুক্তভোগী নারীর আত্মীয় নাছির উদ্দিন ও মো. রাকিব।

তবে আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্তে সীতাকুণ্ড থানার সাবেক ওসি ইফতেখার হাসানের নাম উঠে এলেও তার অপরাধ আমলে নেওয়া হয়নি।

আদালত পরোয়ানা জারি করলেও দুই পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজন এখনো পলাতক রয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬–এর সরকারি কৌঁসুলি নজরুল ইসলাম বলেন, ১২ আসামির মধ্যে সাতজন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।

শুনানি শেষে আদালত কোলে ছোট শিশু থাকায় রোকেয়া বেগম ও শামসুন নাহারের জামিন মঞ্জুর করেন। আলী শাহসহ বাকি পাঁচজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানান তিনি।

মামলার বাদী ওই নারীর স্বামী বলেছেন, আদালত পরোয়ানা জারি করলেও দুই পুলিশ সদস্যসহ বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৯ আগস্ট নগরের হালিশহরে বাসায় ঢুকে এক নারীকে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে সীতাকুণ্ডে নিয়ে নির্জন একটি স্থানে ফেলে রাখা হয়। সেখান থেকে পুলিশ ওই নারীকে দুই হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশের করা মাদক মামলায় কারাগারে যান তিনি। এরপর স্ত্রীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে আদালতে মামলা করেন স্বামী।
আদালত ডিবি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, স্ত্রী জামিনের আবেদন করলে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালত বিষয়টি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

তদন্ত শেষে দুটি সংস্থা এ বছরের শুরুতে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়। এতে কীভাবে, কেন ওই নারীকে ধর্ষণের পর ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে, তার বর্ণনা রয়েছে।

ডিবির প্রতিবেদনে রয়েছে, সীতাকুণ্ড থানার ওসি ইফতেখার হাসানের সহায়তায় এসআই সিরাজ মিয়া ও এএসআই জাকির হোসাইনের মাধ্যমে একটি সাজানো মাদক মামলায় এক নারীকে ফাঁসানো হয়েছে বলে তদন্তে পাওয়া গেছে। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে সীতাকুণ্ড থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

ডিবির প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে দুই পুলিশ সদস্যসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নিয়ে গত ২০ মার্চ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

অপরাধ আমলে নেওয়া আসামিরা হলেন- এসআই সিরাজ মিয়া, এএসআই জাকির হোসাইন, ওই নারীর স্বামীর মৃত প্রথম স্ত্রীর ছেলে, তাঁর স্ত্রী, বড় মেয়ে, তার স্বামী, ছেলের শ্যালক, তাঁদের চার সহযোগী ও ওই নারীর প্রথম স্বামী।

 

টাইমস/জেডটি

মন্তব্য করুন