© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আজহারুল ও কায়সারের আপিল শুনানি ১৮ জুন

শেয়ার করুন:
আজহারুল ও কায়সারের আপিল শুনানি ১৮ জুন
central-desk
১০:৪৪ এএম | ১০ এপ্রিল, ২০১৯

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের আপিল শুনানির জন্য ১৮ জুন দিন ঠিক করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এই বেঞ্চের অপর তিন বিচারক হলেন বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান।

আদালতে আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন, এস এম শাজাহান ও মো. শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

তবে এ মামলায় শুনানির প্রস্তুতির জন্য ৮ সপ্তাহের সময় আবেদন করেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।

এসময় আদালত বলেন, ‘আমরা শুনানির জন্য যেদিন সময় দেবো ওই দিনই শুনানি শুরু হবে। আজহারের আপিল মামলাটি কার্যতালিকায় ১ নম্বরে থাকবে এবং কায়সারের মামলাটি ২ নম্বরে থাকবে। একটা মামলার আপিল শুনানি শেষ হলে আরেকটা শুরু হবে।’ এরপর আদালত আপিল শুনানির জন্য ১৮ জুন নির্ধারণ করে দেন।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। পরে ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেন। আপিলে তার খালাসের পক্ষে ১১৩টি যুক্তি তুলে ধরা হয়।

এ টি এম আজহারের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ ছয়টি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। ২, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া, ৫ নম্বর অভিযোগে ২৫ বছর কারাদণ্ড ও ৬ নম্বর অভিযোগে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাকে। তার বিরুদ্ধে আনীত ১ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে রায়ে বলা হয়।

অন্যদিকে ২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আদালত সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। গণহত্যা, হত্যা, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠনের ১৩টি ও ধর্ষণের দু’টিসহ মোট ১৬টি অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়।

এর মধ্যে ১৪টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় রায়ে। এর মধ্যে ৩, ৫, ৬, ৮, ১০, ১২ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ১, ৯, ১৩ ও ১৪ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড, ২ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর, ৭ নম্বর অভিযোগে সাত বছর ও ১১ নম্বর অভিযোগে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৪ ও ১৫ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ অভিযোগগুলোতে কোনো সাজা দেওয়া হয়নি তাকে।

কায়সার খালাস চেয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় দায়ের করা আপিলে ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিলের পাশাপাশি তাকে বেকসুর খালাস দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।

আপিলে খালাসের আরজিতে ৫৬টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে মোহাম্মদ কায়সারের বিরুদ্ধে। ৫০ পৃষ্ঠার মূল আপিলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত রয়েছে।

 

টাইমস/এইচইউ

মন্তব্য করুন