© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অকেজো সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার ডেমু, নিলামের সিদ্ধান্ত

শেয়ার করুন:
অকেজো সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার ডেমু, নিলামের সিদ্ধান্ত

ছবি: সংগৃহীত

Times Mojo Desk
১২:১৯ পিএম | ২০ জানুয়ারি, ২০২৫
দেশের সড়কপথে এক সময় চলতে থাকা ২০টি ডেমু ট্রেনের মধ্যে কোনোটি আর কাজ করছে না। মাত্র ১০ বছর আগে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চীন থেকে আমদানি করা এই ডেমু ট্রেনগুলো। ৩০ বছর সেবা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু, ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই বিকল হয়ে যেতে শুরু করে ট্রেনগুলো, এবং বর্তমানে সব ট্রেনই অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এখন এগুলো নিলামে বিক্রি করার পরিকল্পনা করছে, কারণ তাদের কাছে ট্রেনগুলোর মেরামত করার মতো উপযুক্ত সক্ষমতা নেই।

২০১০ সালে চীন থেকে আমদানি করা এই ২০টি ডেমু ট্রেন নিয়ে দেশে ব্যাপক আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু, অল্প সময়ের মধ্যেই রেলওয়ের মেকানিকরা নতুন প্রযুক্তি পরিচালনায় অক্ষম হয়ে পড়েন। ডেমু ট্রেনগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশেরও সরবরাহ না থাকায় রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। পুরোপুরি অকেজো হয়ে যায় ২০টি ট্রেনই।

রেল কর্মীরা জানিয়েছেন, ডেমু মেরামতের কোনো ওয়ার্কশপ না বানিয়েই কেনা হয় ট্রেন, ছিল না রক্ষণাবেক্ষণের বন্দোবস্ত, ডেমু সম্পর্কে কোনো ট্রেনিংও দেয়া হয়নি তাদের। এমনকি দেশীয় বাজারে এর কোনো যন্ত্রাংশও পাওয়া যায় না। ফলে কয়েকবার মেরামতের উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ তারা।

এ বিষয়ে রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, "যেটা চালানো সম্ভব নয় বা যেটি এখন আর চলতে পারে না, সেটিকে আমরা অকেজো ঘোষণা করে বিক্রি করার চিন্তা করি।" এর মানে, প্রায় সাড়ে ৬০০ কোটি টাকার এই সম্পদটি এখন বিক্রি করার পথে। তবে, বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করছেন, এই প্রকল্পটি উপযোগিতা বিবেচনা না করে শুধু ব্যক্তিগত লাভের আশায় নেয়া হয়েছিল, যার ফলে জনগণের অর্থের অপচয় হয়েছে।

নির্বাচনী সহায়তা ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেছেন, এই ধরনের প্রকল্প কখনোই রেলের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত হয়নি। বরং এটি পরিকল্পিতভাবে ওপরে থেকে চাপিয়ে দেয়া প্রকল্প ছিল, যার ফলে জনগণের অর্থের অপচয় হয়েছে। তিনি আরো বলেন, “ফিউচারেও যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেজন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা এবং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

এই পুরো ঘটনা থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে, রেলের ক্ষেত্রে প্রকল্প গ্রহণের সময় সঠিক মূল্যায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অভাব ছিল। ডেমু ট্রেন প্রকল্পের মতো বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করার আগে এর কার্যকারিতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের উপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত ছিল। তাই বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করছেন যে, এ ধরনের প্রকল্পে জনস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত লাভের দিকটি বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল।

টিএ/

মন্তব্য করুন