© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

গুম হওয়া মাকে আজও খুঁজে পায়নি মেয়ে

শেয়ার করুন:
গুম হওয়া মাকে আজও খুঁজে পায়নি মেয়ে

ছবি: সংগৃহীত

Times Mojo Desk
০২:২৩ পিএম | ২১ জানুয়ারি, ২০২৫
বিগত আওয়ামীলীগ সরকার আমলে গুমের শিকার হয়েছিলো গর্ভবতী নারীও। এমনকি একজন মেয়ে আটক হয়েছিলো মায়ের সাথে। সেই মেয়ে আজও খুঁজে পায়নি তার মাকে। এসব তথ্য উঠে এসেছে অন্তর্বর্তী সরকার কতৃক গঠিত ‍গুম সংক্রান্ত কমিশনের তদন্তে।

বিগত আওয়ামী সরকার আমলে গুম শব্দটি রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোচিত ছিল। সরকার পতনের সামনে আসছে পর গুম সংক্রান্ত একের পর এক লোমহর্ষক ঘটনা। এরই মাঝে গুম সংক্রান্ত কমিশন প্রকাশ করলো সাড়া সাজানো এসব তথ্য। কয়েকজন নারী ও শিশু যারা ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিল তাদেরও কিছু সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে এই কমিশন।

সোমবার (২০ই জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে ‍গুম সংক্রান্ত কমিশনের বরাত দিয়ে এমন কিছু ঘটনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়।

কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে নারী ও শিশুদের গুম হওয়ার ভয়ংকর সব তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে নারীদের জোরপূর্বক গুম করার নানা তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। অনেক নারী তাদের সন্তানসহ নিখোঁজ হন বলেও প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। অনেকে আবার নিখোঁজের সময় গর্ভবতী ছিলেন।

কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুমের শিকার উল্লেখযোগ্যভাবে কম সংখ্যক নারী শনাক্ত করা গেছে। এর একটি কারণ হলো পুরুষদের জোরপূর্বক নিখোঁজ করার ঘটনা বেশি ঘটে। কিন্তু সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে অনেক নারী তাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে দ্বিধাবোধ করেন। তবুও বেশ কয়েকজন সাহসী নারী ভুক্তভোগী আমাদের সঙ্গে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। আটকের পর নির্যাতনের ভয়ংকর কিছু বিষয়ও শেয়ার করছেন।

একজন পুরুষ ভুক্তভোগী কমিশনের কাছে বর্ণনা দিয়েছেন কীভাবে তার স্ত্রী ও নবজাতক শিশুকে একটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, আটক অবস্থায় তার শিশু সন্তানকে দুধ খাওয়ানোর অনুমতি পর্যন্ত দেয়া হয়নি। এটি তার ওপর মানসিক নির্যাতনের একটি রূপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

একটি ঘটনার কথা উল্লেখ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, একজন মা এবং তার ছোট্ট মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তৎকালীন র‌্যাব-২ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে। এরপর রাতভর আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরের দিন মেয়েটিকে একটি গাড়ি থেকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলা হয়। তার মা এখনো ফিরে আসেনি।

পরিবারের ভাষ্যমতে, একজন ইমাম শিশুটিকে খুঁজে পেয়ে তাকে ফিরিয়ে দেয়। আমরা এ মেয়েটিকে খুঁজে পেয়েছি। সে এখন প্রাপ্তবয়স্ক। র‌্যাব যেখানে তাদের নির্যাতন করেছিল সেখানে তাকে নিয়ে গিয়েছিলাম। তিনি সেই ঘরগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হন।

এছাড়াও আরো অনেক ভুক্তভোগীর তথ্য ও সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে গুম সংক্রান্ত কমিশন। যেখানে প্রকাশ পেয়েছে গুম ও নির্যাতনের নারকীয় সব চিত্র। 

টিএ/

মন্তব্য করুন