© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অবৈধ অভিবাসী ধরপাকড়ে নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার ৪ বাংলাদেশি

শেয়ার করুন:
অবৈধ অভিবাসী ধরপাকড়ে নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার ৪ বাংলাদেশি

ছবি: সংগৃহীত

তাহমিনা তাশরিফ
০২:৩০ পিএম | ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫
ডনাল্ড ট্রাম্প শপথ নেয়ার পর থেকেই আতঙ্কে আছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অবৈধ অভিবাসীরা। চলছে ধরপাকড়। একই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নথিপত্রহীন বাংলাদেশি অভিবাসীরাও। ইতোমধ্যে নিউইয়র্ক থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন চার বাংলাদেশি।

ব্রুকলিন বরোর ফুলটন এলাকা থেকে বৈধ নথি না থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করে দেশটির ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস ইনফোর্সমেন্ট। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তারা সেখানে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় হুট করেই সাদাপোশাক পরিহিত কাস্টমস কর্মকর্তারা তাদের হেফাজতে নেন।

তারা ওই বাংলাদেশিদের পরিচয়পত্র দেখাতে বলেন। একজন পরিচয়পত্র না দেখিয়ে প্রতিবাদী হয়ে ওঠেন। যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম সংশোধনী অনুযায়ী কেউ পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য নন- এমন উচ্চবাচ্চ করায় গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। এরপর কিছু দূরে জড়ো হওয়া আরও তিন বাংলাদেশিকেও গ্রেপ্তার করেন ওই কর্মকর্তারা।

গত ২০ জানুয়ারি শপথ নিয়েই প্রায় ৭৮টি নির্বাহী আদেশে সই করেন রিপাবলিকান ট্রাম্প। ঘোষণা দেন, সীমান্ত আইন কঠোর করে অবৈধ অভিবাসী চিহ্নিত করার। বৈধ নথিপত্রহীন অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেন ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক অ্যাটর্নি জানান, ট্রাম্পের বেশ কয়েকটি নির্বাহী আদেশে বাংলাদেশিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। যারা ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ দক্ষিণ আমেরিকার পথ ধরে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করতেন, সে পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

বাইডেন শাসনামলে ফেডারেল চাকরিতে বৈচিত্র্যকে গুরুত্ব দেয়া হতো। সে হিসাবে অভিবাসীরা বিভিন্ন জায়গায় চাকরির ব্যাপক সুযোগ পেয়েছেন।‌ এখন থেকে সেসব পদে নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। ‌ফলে চাকরি থেকে ছাটাইয়ের ঝুঁকিতে আছেন অসংখ্য বাংলাদেশি।

এদিকে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেয়ার পর থেকে অভিবাসন সংক্রান্ত শতাধিক নির্বাহী আদেশে সই করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অটল থাকেন তার প্রথম মেয়াদের সীমান্ত নীতিতে। হুঁশিয়ারি দেন, অভিবাসীদের শক্ত হাতে দমন করার। সন্দেহভাজন অভিবাসীদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস ইনফোর্সমেন্ট।

অবৈধ ১৮ হাজার ভারতীয় নাগরিককে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিগগিরই তাদের ভারতে ফেরত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্মকর্তারা। অভিবাসী ঢল ঠেকাতে ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা। এই নির্বাহী আদেশের আওতায় অভিবাসীদের বৈধতা দেয়ার একটি প্রকল্পও বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত কর্তৃপক্ষ।

শুধু তাই নয়, সংবিধানের তোয়াক্কা না করে নির্বাহী আদেশ জারি করে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের একটি বিধানও বাতিল করেছেন ট্রাম্প। এতে এখন থেকে ৩০ দিন পর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানেরা দেশটির নাগরিকত্ব পাবে না।

ট্রাম্পের এমন আদেশের বিরোধিতা করে মামলা করেছেন ২৪টি রাজ্য ও শহরের অভিবাসিরা। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনের বিরুদ্ধে যায়। ফলে হাইকোর্ট আদেশটি বাতিল হতে পারে বলে আশা করছেন তারা। 

টিএ/

মন্তব্য করুন