যুদ্ধাপরাধ: নেত্রকোণার দুই আসামির রায় বুধবার
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের মামলায় নেত্রকোনার হেদায়েত উল্লাহ ও সোহরাব ফকিরের বিরুদ্ধে বুধবার মামলার রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য এই দিন ধার্য করেন। প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ৭ মার্চ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখে।
তাপস কান্তি বল বলেন, তিন আসামির মধ্যে এনায়েত উল্লাহ ওরফে মঞ্জু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। হেদায়েতুল্লাহ ওরফে আঞ্জু পলাতক এবং অপর আসামি সোহরাব আলী বিচারের সময় ট্রাইবুনালে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। রায়ে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করেন তিনি।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় অপহরণ, নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার মত মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয় ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এ দুই আসামিদের বিরুদ্ধে।
২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়ার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার আসামি ছিলেন তিনজন। তারা হলেন- শান্তি কমিটির সদস্য হেদায়েত উল্লাহ ওরফে মো. হেদায়েতুল্লাহ ওরফে আঞ্জু বিএসসি (৮০), এনায়েত উল্লাহ ওরফে মঞ্জু (৭০) ও সোহরাব ফকির ওরফে সোহরাব আলী ওরফে ছোরাপ আলী (৮৮)। আঞ্জু-মঞ্জু দুই ভাই। তিনজনের মধ্যে মঞ্জু ও রাজাকার ছোরাপ আটক ছিলেন। ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা যান এনায়েত উল্লাহ ওরফে মঞ্জু।
২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আঞ্জু, মঞ্জু ও ছোরাপ একাত্তরে শান্তি কমিটির সদস্য ও রাজাকার বাহিনীর সদস্য ছিলেন।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ এবং দেশত্যাগে বাধ্যকরণের মতো ছয় ধরনের অপরাধের অভিযোগ পাওয়া যায়। নেত্রকোণার আটপাড়া থানার মধুয়াখালী গ্রাম, মোবারকপুর গ্রাম, সুখারী গ্রাম এবং মদন থানার মদন গ্রামে তারা এসব অপরাধ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তিনজনের বিরুদ্ধে ৬টি অভিযোগ আনা হয়।
টাইমস/এইচইউ