© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ওভাল অফিসকে স্টুডিও বানিয়েছেন ট্রাম্প!

শেয়ার করুন:
ওভাল অফিসকে স্টুডিও বানিয়েছেন ট্রাম্প!

ছবি :সংগৃহীত

তাহমিনা তাশরিফ
০৫:০১ পিএম | ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
জনগণের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের অভিনব পন্থা খুঁজে নিয়েছেন ট্রাম্প। নিজেই হয়েছেন নিজের মুখপাত্র। ওভাল অফিসকে বানিয়েছেন স্টুডিও। হোয়াইট হাউসের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ ওয়েস্ট উইংকে ব্যবহার করছেন নিজের উদ্ভট নিয়মনীতি ঘোষণার কেন্দ্র হিসেবে।

ট্রাম্পের মিডিয়া সেশনের সেসব লাইভ কিংবা ভিডিও নিয়মিত সম্প্রচার করছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের ক্ষমতা ও প্রভাব আরও দৃশ্যমান করতেই এ পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন ট্রাম্প। একের পর এক ওভাল অফিসে আয়োজন করছেন মিডিয়া সেশন।

ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট বিষয়ক ইতিহাসবিদ থমাস অ্যালান শোয়ার্জের ভাষ্যে, ‘প্রেসিডেন্ট তার দাপ্তরিক কার্যালয় ওভাল অফিসে সময় দিচ্ছেন এটি অবশ্যই তার ভাবমূর্তির জন্য ইতিবাচক। প্রেসিডেন্টের ওভাল অফিস ব্যবহারের চেয়ে বেশি কর্তৃত্বপরায়ণ আর কিছু হতে পারে না। তিনি যেন নিজেই নিজের বার্তাবাহক হয়ে উঠেছেন।’

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই তার প্রশাসনের সেরা মুখপাত্র। তিনি ভায়া হয়ে কথা বলতে চান না। সরাসরি জনগণের কাছে নিজে বার্তা পৌঁছে দিতে চান। এই মেয়াদে আপনারা তার কাছ থেকে যতটা সম্ভব বেশি কথা শুনতে পাবেন।’

ওভাল অফিসের মিডিয়া প্রতিনিধিদের তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের শপথ নেয়ার প্রথম চার সপ্তাহেই ট্রাম্প ৩৪টি মিডিয়া সেশন করেছেন। এগুলোর ১৬টিই হয়েছে ওভাল অফিস থেকে। যেখানে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ওভাল অফিস থেকে ট্রাম্পের মিডিয়া সেশন ছিল কেবল ৫টি।

অন্যদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাইডেন তার শাসনামলে মোট ২২টি প্রশ্ন-উত্তর সেশন করেছেন। এর মধ্যে ৯টি ছিল ওভাল অফিসে। ওভাল অফিসের এই সেশনগুলোতে ট্রাম্প নানান ইস্যুতে খোলামেলা বক্তব্য রাখছেন। কথা বলছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে গাজা সংকট, এমনকি কাগজের স্ট্র নিয়েও।

ভিডিও গুলোতে ওভাল অফিসের ঐতিহাসিক ‘রেজোলুট ডেস্ক’ এর পেছনে বসে বক্তব্য দিতে দেখা যায় ট্রাম্পকে। যেখানে তার বিখ্যাত ‘লাল বোতাম’ও রয়েছে। সেটিতে চাপ দিলেই ট্রাম্পের সহকারী ডায়েট কোক নিয়ে হাজির হন তার সামনে।

তবে ঘন ঘন সেশন করলেও সেগুলোতে দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির প্রবেশের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি এসোসিয়েটেড প্রেসের এক সাংবাদিককে হোয়াইট হাউজে ঢুকতে বাধা দেয়া হয়। কারণ বার্তা সংস্থাটি ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ অনুসারে মেক্সিকো গালফের পরিবর্তে ‘আমেরিকান গালফ’ নাম ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানায়।

সাংবাদিকরা বলছেন, এক সময়ের রিয়েলিটি শো তারকা ট্রাম্প যেন এখন ‘ওভাল অফিস লাইভ’ নামের এক অনবদ্য রাজনৈতিক শো চালু করেছেন। বিনামূল্যে কভারেজ পাওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিত্যনতুন বক্তব্য দিচ্ছেন।

ট্রাম্পের মিডিয়া কৌশলের আরেকটি দিক হলো অপ্রত্যাশিত সময়ে সাংবাদিকদের ডেকে পাঠানো। অনেক সময়ই দৈনিক সূচিতে ‘ক্লোজড প্রেস’ লেখা থাকলেও, অনুষ্ঠানের কয়েক মিনিট আগে সিদ্ধান্ত বদলে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার দেয়া হয়।

ট্রাম্পের প্রতিটি সেশনই শেষ হয় নাটকীয়তায়। প্রায়ই তার শেষ কথা থাকে- ‘আজই আপনাদের জন্য চমক আসছে।’ এরপরই বিশ্বে আলোড়ন তোলা নানা রকম বিতর্কিত পরিকল্পনা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই নতুন যোগাযোগ কৌশল কার্যকর হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হবে, তা এখনও বলা যাচ্ছে না।

মন্তব্য করুন