© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

‘বাংলাদেশে প্রতি ১০ লাখ মানুষের বিপরীতে বিচারক ১০ জন’

শেয়ার করুন:
‘বাংলাদেশে প্রতি ১০ লাখ মানুষের বিপরীতে বিচারক ১০ জন’
own-reporter
০৩:০২ পিএম | ২৮ এপ্রিল, ২০১৯

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে এত মামলা যে ফাইল রাখার মত পর্যন্ত জায়গা নেই। এক কথায় ক্রিটিক্যাল অবস্থা, এভাবে চলতে পারে না।

রোববার আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চে একটি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি এমন মন্তব্য করেন।

মামলাটির পক্ষে বিপক্ষে শুনানিতে আদালতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ।

শনিবার সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে ‘মামলাজট নিরসন ও বিচার প্রার্থীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি, বিচার বিভাগের কাঠামোগত উন্নয়ন সংক্রান্ত’ বিষয়ে একটি নিরীক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন করে সুপ্রিম কোর্টের জুডিশিয়াল রিফর্ম কমিটি ও জার্মান ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন বাংলাদেশ (জিআইজেড)।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মামলাজট নিয়ে বক্তব্য দেন।

জিআইজেডের ওই প্রতিবেদনে বিব্রত হয়েছেন মন্তব্য করে রোববার তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের মামলার নিরীক্ষা প্রতিবেদন দেখে আমি প্রায় বিব্রত। এত মামলা! এভাবে চলতে পারে না। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি সুপ্রিম কোর্টের সকল বিচারপতিকে নিয়ে বসব। সবাইকে বলব যে, এ অবস্থায় কী করবেন আপনারা দেখেন।’

বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ মামলা বিচারাধীন। ১৯৮২ সালে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২৫ হাজার।

আগাম জামিনের আবেদনগুলো যদি নিয়মিতভাবে নিস্পত্তি করা না হত, তাহলে সুপ্রিম কোর্টে মামলার সংখ্যা এখন ১০ লাখ ছাড়িয়ে যেত বলে মনে করেন প্রধান বিচারপতি।

শনিবার নীরিক্ষা প্রতিবেদন উপস্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে প্রয়োজনের তুলনায় বিচারক কম থাকলেও শুধু এর সমাধানেই মামলাজট কমবে না।

বিচারকের অপর্যাপ্ততার চিত্র তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি ওই অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, বাংলাদেশে প্রতি দশ লাখ লোককে মাত্র ১০ জন বিচারক বিচারিক সেবা দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রে এই সংখ্যা ১০৭, কানাডায় ৭৫, ব্রিটেনে ৫১, অস্ট্রেলিয়ায় ৪১, ভারতে ১৮ জন।

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কতটা পিছিয়ে সেই চিত্র তুলে ধরে বিচারপতি  সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোতে ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ মামলা পারস্পরিক বোঝাপড়া বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়ে থাকে। বড় জোর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি হয় আদালতে। আর আমাদের দেশে এর চিত্র ঠিক তার বিপরীত। এদেশে কেবল ১০ থেকে ১৫ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি হয়ে থাকে বোঝাপড়া বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে। আর ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ মামলার নিষ্পত্তি হয় আদালতে।

 

টাইমস/এসআই

মন্তব্য করুন