বকেয়া বেতন-ভাতাসহ শিশু বিকাশ কেন্দ্রের ৪ দফা দাবি
ছবি:সংগৃহীত
০৯:০৯ এএম | ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
শিশু বিকাশ কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আট মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং কেন্দ্রগুলোকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন শিশু বিকাশ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে, শিশু বিকাশ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ সময় শিশু বিকাশ কেন্দ্রের চিকিৎসক, সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর, শিশু মনোবিজ্ঞানী, বিশেষজ্ঞরা এবং প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের সভাপতি রোদেলা আমিন, সুশীল সমাজের নেতাদের অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনের মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সিনিয়র ইন্সট্রাক্টর (শিশু মনোবিজ্ঞানী) ড. ফায়েজা আহমেদ। তিনি তার বক্তব্যে শিশু বিকাশ কেন্দ্রের সূচনা থেকে বর্তমান অবস্থান এবং এর সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেন। ২০০৩ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত প্রফেসর ড. নায়লা জামান খানের প্রচেষ্টার মাধ্যমে ২০০৯ সালে প্রথম ৫টি কেন্দ্রের মাধ্যমে শুরু হওয়া শিশু বিকাশ কেন্দ্র বর্তমানে ৩৫টি কেন্দ্রে উন্নীত হয়েছে। তিনি আরও জানান, শিশু বিকাশ কেন্দ্রগুলো ১০ টাকার বিনিময়ে একাধিক বিশেষায়িত সেবা প্রদান করছে এবং ২ লাখ ৫২ হাজার ৬০০ জন রোগী ৮ লাখ ৮৬ হাজার ২৫২ বার চিকিৎসা সেবা পেয়েছেন।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বিগত ৮ মাস ধরে বেতন ছাড়াই কাজ করছেন। বেতনবিহীন অবস্থায় দীর্ঘদিন কাজ করা কোনও ব্যক্তির পক্ষেই সহজ নয়। এই কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য বেতনের ওপর নির্ভরশীল।
তারা বলেন, বেতন না পাওয়ার কারণে তাদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
চার দফা দাবি
শিশু বিকাশ কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিগত মাসের প্রাপ্য বকেয়া বেতন ও ভাতা অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে; শিশু বিকাশ কেন্দ্রগুলোকে রেভিনিউ বাজেটের অন্তর্ভুক্তি বা সরকারি বিশেষ সেবাদানকারী গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবা হিসাবে চালুর বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে; শিশু বিকাশ কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের চাকরির অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে; এবং বিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশু ও প্রতিবন্ধী শিশুদের সেবার মান উন্নয়নের জন্য শিশু বিকাশ কেন্দ্রগুলোর আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন করতে হবে।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রোমেনা মোরশেদ, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মাহমুদোর রহমান, শিশু মনোবিজ্ঞানী ড. ফাইজা আহমেদ, শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ক চিকিৎসক ড. ইসরাত জাহান ইমা, সিনিয়র ইন্সট্রাকটর মোহসীনা সুলতানা প্রমুখ।
সর্বশেষে ডেভেলপমেন্টাল থেরাপিস্ট মেরিনা লতিফ, শিশু বিকাশের কর্মকর্তা কর্মচারীরা, আমন্ত্রিত অতিথি, উপস্থিত সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা, সম্মানিত সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন শেষ করেন।