দুই ফুসফুসেই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত পোপ ফ্রান্সিস
ছবি : সংগৃহীত
০২:৩৮ পিএম | ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
ডাবল নিউমোনিয়ার সংক্রমণ বেশ গুরুতর। এতে উভয় ফুসফুস দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং শ্বাস নিতে সমস্যা সৃষ্টি করে।
পোপ ফ্রান্সিসের দুই ফুসফুসেই নিউমোনিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে ভ্যাটিকান। মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে ভ্যাটিকান জানিয়েছে, ৮৮ বছর বয়সী এই ধর্মগুরুর চিকিৎসাকে আরো কঠিন করে তুলেছে ‘ডাবল নিউমোনিয়া’।
পোপ ফ্রান্সিস এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে ভুগছেন। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রোমের জেমেলি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।
ভ্যাটিকান এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকালে পোপের বুকে সিটি স্ক্যান করা হয়। এতে তার দুই ফুসফুসে নিউমোনিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে পোপ ফ্রান্সিস এখনো মানসিকভাবে সুস্থ আছেন।
ভ্যাটিকান জানিয়েছে, ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল ও বুকের এক্স-রে পোপের সামগ্রিক শারীরিক অবস্থার বেশ জটিল চিত্র দেখিয়েছে। পোপ ‘পলিমাইক্রোবিয়াল সংক্রমণে’ ভুগছেন। এ সংক্রমণ রোধে কর্টিকোস্টেরয়েড এবং অ্যান্টিবায়োটিক থেরাপির প্রয়োজন।
ডাবল নিউমোনিয়ার সংক্রমণ বেশ গুরুতর। এতে উভয় ফুসফুস দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং শ্বাস নিতে সমস্যা সৃষ্টি করে। পোপের জন্য এই সংক্রমণ একটু বেশিই স্বাস্থ্য ঝুঁকির সৃষ্টি করেছে। কারণ, যৌবনে প্লুরিসি রোগ হয়েছিল তার। তখন তার একটি ফুসফুসের কিছুটা অংশ অপসারণ করতে হয়েছিল।
ভ্যাটিকানের এক কর্মকর্তা নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে জানান, পোপকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়নি এবং তিনি নিজেই শ্বাস নিতে পারছেন।
সাম্প্রতিক বিবৃতির আগে পোপের সমস্ত প্রকাশ্য কর্মসূচি রোববার পর্যন্ত বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছিল ভ্যাটিকান। এরপর গত সোমবার ভ্যাটিকান জানায়, তার শারীরিক অবস্থা জটিল হয়ে ওঠায় দ্বিতীয়বারের মতো ওষুধ পরিবর্তন করা হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, পলিমাইক্রোবিয়াল সংক্রমণ তখনই ঘটে যখন দুটি বা তার বেশি অণুজীব একসঙ্গে সংক্রমণ ঘটায়— যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাকের কারণে হতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগেছেন পোপ। ফ্লুতে কয়েকবার আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। তাছাড়া, সায়াটিকা স্নায়ুর ব্যথা এবং ২০২৩ সালে অ্যাবডোমিনাল হার্নিয়ায় আক্রান্ত হন তিনি। সেবার অপারেশন প্রয়োজন হয়েছিল পোপের।