বনশ্রীর ঘটনায় ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আটক হয়নি কেউ
ছবি:সংগৃহীত
০৩:২০ পিএম | ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
গতকাল রাতে বনশ্রী ডি ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাড়ির সামনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনকে (৪৩) গুলি ও ছুরিকাঘাত করে প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণ ও নগদ এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। জড়িতদের কাউকে শনাক্ত কিংবা আটকও করতে পারেনি পুলিশ।
রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঘটে। রাত ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। রাত ১টার দিকে ঘটনাস্থলে যায় সেনাবাহিনীর একটি দল। ঘটনার পরপরই আশপাশের এলাকাগুলোতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হলেও জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনাটি বিপরীত পাশের ভবন থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা ভিডিও করছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভিডিওটিতে দেখা যায়, বনশ্রী ডি ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাড়ির সামনে তিনটি মোটরসাইকেলে করে সাতজন ছিনতাইকারী ওই ব্যবসায়ীকে ঘিরে ধরে। ওই ব্যবসায়ীকে একটি বাড়ির গেটের সামনের রাস্তায় ফেলে দিয়ে একজন ছিনতাইকারী তার কাছ থেকে একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। অন্যদিকে আরেকজন ছিনতাইকারী তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে যাচ্ছিল। এসময় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ‘মাগো মাগো’ বলে চিৎকার করছিলেন। ওই ভুক্তভোগী যখন ব্যাগ ছিনিয়ে নিতে ছিনতাইকারীদের বাধা দিচ্ছিলেন তখন আরেকজন ছিনতাইকারী তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ওই সময় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আরও জোরে জোরে মাগো মাগো বলে চিৎকার দিতে দিতে আত্ম রক্ষার্থে ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে দৌড়ে কিছুটা পেছনের দিকে পালিয়ে যান। দুর্ধর্ষ এ ছিনতাইয়ের ঘটনার ১৮ সেকেন্ডের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র বলছে, ঘটনার পরপরই প্রথমে পুলিশ ও পরে সেনাবাহিনীর দল ঘটনাস্থলে আসে। তারা পুরো বনশ্রী এলাকা পরিদর্শন করে। এমনকি সতর্কতা হিসেবে আফতাবনগরের মূল গেটেও টহল দিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামপুরা থানার ডিউটি অফিসার বলেন, ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে রয়েছেন। ওসি তদন্তের চেয়ারে এখনো কেউ নেই। ওসি তদন্ত রয়েছেন ট্রেনিংয়ে। রাতের ঘটনায় এখনো থানায় মামলা হয়নি, আটকও নেই।
মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা বলেন, ঘটনা ভুক্তভোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় রামপুরা থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।