কীভাবে চলছে গাজাবাসীর জীবন?
ছবি: সংগৃহীত
০৯:১৫ এএম | ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
যুদ্ধ থামলেও দুঃস্বপনের প্রহর শেষ হয়নি গাজাবাসীর। যুদ্ধের ভয়াবহতায় সব হারিয়ে আজ সর্বস্বান্ত তারা। যে বাড়ি একসময় ছিল নিরাপদ আশ্রয়, আজ তা শুধুই ধ্বংসস্তূপ। সেই সঙ্গে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে খাদ্য ও নিরাপদ পানির অভাব। নিঃস্ব পরিবারগুলো এখন বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত।
গাজার উত্তরাঞ্চলের শহর বেইত লাহিয়া। এই শহরেই স্বামী সন্তান নিয়ে সুখের সংসার ছিল রাওয়া তাম্বুরার। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ মাসের যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছে তার সব স্বপ্ন। স্বপ্নের বাড়িটি চোখের সামনে এখন শুধু ফাটল ধরা দেয়াল আর ধ্বংসস্তূপ হয়ে দাঁড়িয়ে। ঘরের ছাদ নেই, নেই কোনো নিরাপত্তা। তাম্বুরার অশ্রুই যেন বৃষ্টি হয়ে ঝরছে।
পানি চুইয়ে পড়ছে ঘরের ভেতরে, ঠান্ডায় কাঁপছে বাচ্চারা। সেই সঙ্গে প্রকট আকার ধারণ করেছে খাবার পানির অভাব। গাজার বাজারে খাবারের সংকট কিছুটা কমলেও দাম এখনও আকাশছোঁয়া। ফলে এক টুকরো মাংস বা এক প্লেট ভালো খাবার পাওয়াই দুষ্কর।
রাওয়া তাম্বুরার কথায়,
বিমান হামলা যখন আমাদের বাড়ির ওপর আঘাত হানে, তখন মনে হয়েছিল, সব শেষ। আমরা তো সাধারণ মানুষ, কারও কোনো ক্ষতি করিনি। তবু আমাদের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়া হলো। এক মুহূর্তের মধ্যে আমাদের সব কিছু শেষ হয়ে গেল। এখন কোনো নিরাপদ জায়গা নেই। আমরা এমন একটি ঘরে থাকছি যেটা যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। বেঁচে থাকাটাই যেন এখন চ্যালেঞ্জ।
একই অবস্থা গাজার দক্ষিণের তেল আল-হাওয়া অঞ্চলে। এখানকার বাসিন্দা আসমা দাইমা। দীর্ঘ ১৫ মাসের দুঃস্বপ্নের প্রহর শেষে তিনিও ফিরে এসেছেন নিজ বাড়িতে। প্রথমবারের মতো নিজের বাড়ির ধ্বংসাবশেষ দেখে স্তব্ধ তিনি। জানান, ২০১৪ সালেও একবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল তার বাড়ি। অনেক কষ্টে ঘুরে দাঁড়ালেও এবার আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
আসমা দাইমা বলছিলেন,
ছবি দেখেই চোখের পানি থামাতে পারিনি, কারণ এটা শুধু একটা বাড়ি নয়, এটা আমাদের জীবনের স্মৃতি, আমাদের অস্তিত্বের অংশ। ১৫ মাস ধরে দুঃস্বপ্নের মধ্যে কাটিয়েছি। কিন্তু এখনকার অবস্থা আরও ভয়াবহ। কারণ আগে লড়াই ছিল প্রাণ বাঁচানোর, এখন লড়াই করতে হচ্ছে নিজের অস্তিত্ব ধরে রাখার জন্য।
কী বলছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো?
জাতিসংঘের হিসেবে, যুদ্ধবিরতির পর গেল এক মাসে গাজার উত্তরাঞ্চলে ফিরেছে ছয় লাখের বেশি মানুষ। তবে স্বস্তি মিলছে না গাজাবাসীর জীবনে। ঘরবাড়ি হারিয়ে বিভীষিকাময় বাস্তবতার মুখোমুখি তারা। খাবার মিলছে না, রান্নার গ্যাস নেই, বিশুদ্ধ পানি আনতে হাঁটতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
জাতিসংঘ বলছে, গাজা পুনর্গঠনে ৫ হাজার ৩শ' কোটি ডলার প্রয়োজন। শুধু ধ্বংসস্তূপ সরাতেই প্রয়োজন অন্তত ১০০টি বুলডোজার। যা পূর্ণ গতিতে কাজ করলেও লেগে যাবে ১৫ বছর।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার পুরো জনগোষ্ঠীকে সরিয়ে নতুন করে এই অঞ্চল পুনর্গঠনের প্রস্তাব দিলেও ফিলিস্তিনিরা এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলছে, তারা নিজেরাই গাজা পুনর্গঠন করতে চায়।
অন্যদিকে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো গাজার পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন করে কাজ শুরু করেছে। খাবার বিতরণের জন্য চালু হয়েছে কমিউনিটি কিচেন, বসানো হয়েছে নতুন পানির স্টেশন, বিতরণ করা হচ্ছে ত্রাণ সামগ্রী।