© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

আরো ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তির পাশাপাশি ইসরাইলিদের মৃতদেহ হস্তান্তর

শেয়ার করুন:
আরো ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তির পাশাপাশি ইসরাইলিদের মৃতদেহ হস্তান্তর

ছবি:সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:০২ পিএম | ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
বৃহস্পতিবার ভোরে (২৭ ফেব্রুয়ারি) হামাস চার ইসরাইলি জিম্মির মৃতদেহ হস্তান্তর করেছে এবং এর পরপরই মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনি বন্দীদের আরেকটি দল অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিরে গেছে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরাইল কর্তৃপক্ষ।

প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে তারা ‘চার নিহত জিম্মির’ কফিন পেয়েছে এবং ইসরাইলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এর আগে, হামাস জানায়, ‘দখলদাররা যাতে বিলম্ব বা বাধার কোনো অজুহাত খুঁজে না পায়’ সেজন্য চার ইসরাইলির মৃতদেহ একান্তে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

ইসরাইলি মিডিয়া তাদের ওহাদ ইয়াহালোমি, সাচি ইদান, ইতজিক এলগারাত এবং শ্লোমো মানসুর নামে শনাক্ত করেছে।

রামাল্লায় এএফপির সাংবাদিকরা ইসরাইল কর্তৃক মুক্তিপ্রাপ্ত ৬ শতাধিক বন্দীর একটি দলকে উৎফুল্ল জনতার সামনে একটি বাস থেকে নেমে যেতে দেখেছেন। মুক্তিপ্রাপ্ত বেশ ক’জন ফিলিস্তিনিকে আনন্দোল্লাস করতে দেখা যায়। তাদের একজনের চারপাশে জড়ো হয়ে একদল নারী কান্নায় ভেঙে পড়ে। একটি শিশু দু’হাতে শান্তির চিহ্ন দেখায়।

গত সপ্তাহের শেষে তাদের মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলায় জর্জরিত মৃত বা জীবিত জিম্মিদের হস্তান্তরের জন্য হামাস কর্তৃক আয়োজিত আনুষ্ঠানিকতার কারণে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হলে ইসরাইল প্রক্রিয়াটি বন্ধ করে দেয়। এই ক্ষোভ ১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এক ভঙ্গুর গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম পর্যায়ে কার্যকরের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

যুদ্ধবিরতি চূক্তি মূলত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, ইসরায়েলের ওপর হামাসের হামলার ফলে শুরু হওয়া যুদ্ধকে থামিয়ে দিয়েছে এবং ১,১০০ জনেরও বেশি বন্দীর বিনিময়ে এখন পর্যন্ত ২৫ জন জিম্মিকে জীবিত মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তবে, সহিংসতার বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার গাজার অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি উৎক্ষেপণ স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

ওয়াশিংটনে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক শীর্ষ দূত বলেছেন, ইসরাইলি প্রতিনিধিরা যুদ্ধবিরতির পরবর্তী পর্যায়ে আলোচনার জন্য যাচ্ছেন। স্টিভ উইটকফ আমেরিকান ইহুদি কমিটির এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমরা অনেক অগ্রগতি করছি। ইসরাইল এখনই একটি দল পাঠাচ্ছে।’ ‘এটি হয় দোহায় অথবা কায়রোতে হবে। মিশরীয় এবং কাতারিদের সাথে আবার আলোচনা শুরু হবে।’

চুক্তির প্রথম ধাপ শনিবার (১ মার্চ) শেষ হওয়ার কথা, তবে ফেব্রুয়ারির শুরুতে শুরু হওয়ার কথা থাকা পরবর্তী ধাপের আলোচনা এখনো শুরু হয়নি।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি), হাজার হাজার মানুষ গাজায় বন্দী অবস্থায় নিহত শিরি বিবাস এবং তার ছেলেদের শেষকৃত্যে অংশ নিতে ইসরাইলে জড়ো হয়।

ইসরাইলি পার্লামেন্ট তাদের মৃত্যুতে এবং ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলায় নিহত অন্যান্যদের শোক প্রকাশে এক মিনিট নীরবতা পালন করে।

মন্তব্য করুন