ট্রাম্প-জেলেনস্কি তর্কযুদ্ধে কাকে সমর্থন দিলেন বিশ্বনেতারা?
ছবি:সংগৃহীত
০৩:৪৫ পিএম | ০১ মার্চ, ২০২৫
ট্রাম্প-জেলেনস্কির নজিরবিহীন বাগবিতণ্ডায় এরই মধ্যে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে শুরু করেছেন বিশ্ব নেতারা। কেউ দাঁড়িয়েছেন ট্রাম্পের পাশে আবার কেউ সমর্থন দিয়েছেন জেলেনস্কিকে।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে রাশিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়ে জেলেনস্কিকে এক হাত নেন ট্রাম্প। উত্তেজনার পারদ চড়ায় বাতিল হয় দুই নেতার যৌথ সংবাদ সম্মেলন। এমনকি ইউক্রনের বিরল খনিজে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তিতেও সই করেননি ট্রাম্প ও জেলেনস্কি।
যৌথ সংবাদ সম্মেলন বাতিল হওয়ার পর জেলেনস্কিকে হোয়াইট হাউস থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এত কিছুর পরও প্রশংসায় ভাসছেন ট্রাম্প। আর জেলেনস্কির পাশে দাঁড়িয়েছে ফ্রান্স ও স্পেনের মতো ইউরোপের দেশগুলো।
ট্রাম্পের প্রশংসায় সরব হয়ে ওঠেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ও ট্রাম্প প্রশাসনের অনেকেই। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট ব্যাসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, বিশ্বমঞ্চে আমেরিকান জনগণ ও আমাদের জাতির পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’
ট্রাম্প প্রশাসনের কৃষিমন্ত্রী ব্রুক রলিন্স এক্সে লেখেন, ‘আমেরিকান নেতৃত্ব ফিরে এসেছে—ওভাল অফিসে ও বিশ্বমঞ্চে। নির্ভীক, সাহসী, অবিচল। আমরা আমেরিকাকে রক্ষা করব।’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের প্রশংসা করেছেন রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান রাল্ফ নরম্যানও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘শক্তিশালী নেতৃত্ব নিশ্চিত করছেন বন্ধু ট্রাম্প। আমরা যেকোনো পরিস্থতিতে আমেরিকান জনগণকেই এগিয়ে রাখি।’
এদিকে জেলেনস্কির পক্ষে দাঁড়িয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডনাল্ড টাস্ক জেলেনস্কির সমর্থনে লিখেছেন, ‘প্রিয় জেলেনস্কি, ইউক্রেনের প্রিয় বন্ধুরা, আপনারা একা নন।’ স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সেনচেজ এক্স পোস্টে জানান, স্পেন বরাবরই ইউক্রেনের পাশে আছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল মাখোঁও ইউক্রেন ও জেলেনস্কির প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রাশিয়া নিঃসন্দেহে আগ্রাসনকারী এবং ইউক্রেনের মানুষ এই আগ্রাসনের ভুক্তভোগী।’ তার ভাষ্যে, ‘শুরু থেকে যারা লড়াই করে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি আমাদের অবশ্যই সম্মান দেখাতে হবে।’
সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ড্যানিস শিমহাল বলেন, ‘ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মানে গোটা ইউরোপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া পুরো ইউরোপ মহাদেশের ওপর রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধবিরতি হতে পারে না।’