তুরস্কের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা পিকেকের
০৭:১৯ পিএম | ০১ মার্চ, ২০২৫
তুরস্কের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)। সেইসঙ্গে পিকেকের প্রতিষ্ঠাতা ও কারাবন্দি নেতা আবদুল্লাহ ওকালানের নিরস্ত্রীকরণের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। তবে গোষ্ঠীটি বলেছে, কারাবন্দি কুর্দি নেতা আবদুল্লাহ ওকালানের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা তুরস্কের সাথে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন করবে। কুর্দি গণমাধ্যমের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
শনিবার (১ মার্চ) পিকেকে নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম ফিরাত নিউজ এজেন্সি (এএনএফ) গোষ্ঠীটির যুদ্ধবিরতির এই ঘোষণার খবর প্রকাশ করেছে। এই ঘোষণাকে তুরস্কের সঙ্গে গোষ্ঠীটির ৪০ বছরের সংঘাতের অবসানে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কারাবন্দি কুর্দি নেতা আবদুল্লাহ ওকালান তার অনুসারী যোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণের নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে তুর্কি রাষ্ট্রের সাথে কয়েক দশকের সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে পিকেকে-কে বিলুপ্ত করার আহ্বানও জানান।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পিকেকে ও তুর্কি রাষ্ট্রের মধ্যে শান্তির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) কুর্দিপন্থি ডিইএম পার্টির একটি প্রতিনিধিদল আবদুল্লাহ ওকালানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে কারাগারে যান। যেখানে তিনি ১৯৯৯ সাল থেকে বন্দি রয়েছেন।
প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাতের পর ওকালান একটি বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে পিকেকে-কে অস্ত্র সমর্পনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানাচ্ছি, এবং আমি এই আহ্বানের ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ করছি।’
কুর্দিপন্থি ডিইএম পার্টির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের [দলের] কংগ্রেস বা সম্মেলন আহ্বান করুন এবং সিদ্ধান্ত নিন। সব গোষ্ঠীকে তাদের অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে এবং পিকেকে অবশ্যই বিলুপ্ত হতে হবে।’ একই সঙ্গে তিনি কুর্দিদেরকে রাষ্ট্র ও সমাজের সঙ্গে মিলিত হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
পিকেকে নেতার এই ঘোষণাকে স্বাগত জানায় তুরস্ক সরকার। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের ক্ষমতাসীন একে পার্টির ডেপুটি চেয়ারম্যান এফকান আলা বলেন, ‘পিকেকে যদি অস্ত্র সমর্পণ করে এবং নিজেদের বিলুপ্তির ঘোষণা দেয়, তাহলে এই দেশ শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হবে।’ আলা আরও বলেন, ‘সরকার আশা করছে, পিকেকে যোদ্ধারা ওকালানের আহ্বান মেনে নেবে।’
১৯৮৪ সালে কুর্দিদের জন্য একটি পৃথক আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই শুরু করে পিকেকে। সেই লড়ইয়ে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজার এরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। পরে কুর্দিরা তাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী লক্ষ্য থেকে সরে এসে দক্ষিণ-পূর্ব আনাতোলিয়ায় একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং কুর্দিদের জন্য বৃহত্তর অধিকারের দাবি জানাতে থাকে।
পিকেকে-র সাথে যুক্ত গোষ্ঠীগুলো তুরস্কে মাঝেমধ্যেই হামলা চালায়। তারা সাধারণত গাড়ি বোমা ও অন্যান্য উপায় ব্যবহার করে তুরস্কের সেনা ও সামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা করে থাকে। তুরস্কের পাশাপাশি সিরিয়া ও ইরাকেও এই গোষ্ঠীর সদস্যদের অবস্থান রয়েছে। তুরস্ক ও এর মিত্র পশ্চিমা দেশগুলো পিকেকেকে একটি ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।
৭৫ বছর বয়সি ওকালান রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ১৯৯৯ সাল থেকে ইস্তাম্বুলের কাছে ইমরালি দ্বীপে বন্দি রয়েছেন। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে পিকেকে ওকালানকে মুক্তি দিতে আঙ্কারার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
পিকেকে নির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শান্তি ও গণতান্ত্রিক সমাজের লক্ষ্যে আমাদের নেতার আহ্বান বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত করার জন্য আমরা আজ থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করছি। আমরা নেতার আহ্বানের বিষয়বস্তুর সাথে একমত এবং আমরা বলছি যে আমরা এটি অনুসরণ ও বাস্তবায়ন করব।
এতে আরও বলা হয়েছে, ‘আক্রমণ না করা পর্যন্ত আমাদের কোনো বাহিনী সশস্ত্র পদক্ষেপ নেবে না।’ তবে বিবৃতিতে নির্দিষ্টভাবে পিকেকে বিলুপ্ত করার ব্যাপারে কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।