কারাগারে আগুনে আইনজীবীর মৃত্যু: বিচারিক তদন্তের নির্দেশ
ঢাকা বারের আইনজীবী পলাশ কুমার রায় পঞ্চগড়ে কারা হেফাজতে থাকা অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ হওয়া এবং পরে হাসপাতালে তার মৃত্যুর ঘটনায় বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
এক রিটের শুনানির প্রেক্ষিতে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার রুলসহ এই আদেশ দেয়। জনস্বার্থে আইনজীবী সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন এই রিট আবেদন করেছিলেন।
আদালতের আদেশে বলা হয়, পঞ্চগড়ের মুখ্য বিচারিক হাকিমের তত্ত্বাবধায়নে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে ওই ঘটনার বিচারিক তদন্ত করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
আর এই তদন্ত কাজে সহায়তা করতে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক, জেলা কারাগারের প্রধান এবং জেলার পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
কারাগারে কারাবন্দিকে যথাযথ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। আগামী ২৩ জুন বিষয়টি পরবর্তী আদেশের জন্য রাখা হয়েছে।
নিজের রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ সাইয়েদুল হক সুমন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান।
আদালতের আদেশের পর ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘পঞ্চগড়ের সন্তান পলাশ ঢাকা বারের একজন অ্যাডভোকেট। উনি মানহানির মামলায় পঞ্চগড় জেলা কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থাকাকালে গত ২৬ এপ্রিল কে বা কারা তার শরীরে পেট্রোল বা কেরোসিন জাতীয় পদার্থ ঢেলে আগুন দেয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।’
পলাশের এমন মৃত্যুর বিচারিক অনুসন্ধান চেয়ে এই রিট আবেদন করেছিলেন ব্যারিস্টার সুমন।
তিনি বলেন, ‘আদালত শুনানিতে বলেছেন, ছেলেটাকে যদি হত্যা করা নাও হয়ে থাকে, সে যদি আত্মহত্যাও করে থাকে, তাহলেও এটা বের হয়ে আসা দরকার। কারাগারের অভ্যন্তরে সে কেরোসিন অথবা দাহ্য পদার্থ কোথায় পেল, কীভাবে আগুন দিল? এ ব্যাপারটা সামনে আসা জরুরি।’
টাইমস/এসআই