জীবদ্দশায় দেশের কৃতি সন্তানদের সম্মানিত করতে না পারা বেদনাদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস। মরণোত্তর পদকের পালা শেষ করে সরকার ভবিষ্যতে কেবল জীবিত কৃতি সন্তানদের সম্মানিত ও পুরস্কৃত করার চেষ্টা করবে বলেও জানান তিনি। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
এবার সাতজন পদকপ্রাপ্তের ছয় জনই মরণোত্তর সম্মানে ভূষিত হলেন। তারা হলেন- বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম, কবি আল মাহমুদ, ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ, ভাস্কর নভেরা আহমেদ, পপ সম্রাট আজম খান, বুয়েট শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদ।
এবার জীবদ্দশায় কেবল লেখক ও বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমরকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। অবশ্য তিনি আগেই এক বিবৃতির মাধ্যমে পুরস্কার গ্রহণ করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। তবুও জাতির এই সূর্যসন্তানকে স্বাধীনতা পদকের স্বীকৃতি দিতে পেরে গর্ববোধ করার কথা জানান মুহাম্মদ ইউনূস।
বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলামের অবদান তুলে ধরার পাশাপাশি কবি আল মাহমুদের সাহিত্যকর্ম এবং কবিতা বহু কবি, লেখক, পাঠককে অনুপ্রাণিত করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। স্বাধীনতা যুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ে দেশ গঠনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কোথাও স্মরণ করেন ড. ইউনূস।
ভাস্কর্যে নভেরা আহমেদের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘পূর্ববাংলায় নভেরার হাতেই প্রথম ভাস্কর্যের উদ্বোধন হয়। তিনি আধুনিক ভাস্কর্যের পথিকৃৎ।’ আর পপসম্রাট আজম খানের গান মুক্তিযুদ্ধ এবং সমাজের বঞ্চিত মানুষের অনুপ্রেরণা বলে মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান।
এবার ‘প্রতিবাদী তারুণ্য’ নামে নতুন ক্যাটাগরিতে মরণোত্তর সম্মাননা জানানো হয়েছে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। দেশের পক্ষে ফেসবুকে কথা বলায় তিনি ছয় বছর আগে ছাত্রলীগ কর্মীদের নির্যাতনে বুয়েট ক্যাম্পাসেই প্রাণ হারান। আবরার ফাহাদকে নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হিসেবে বর্ণনা করে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “যে জেনজি প্রজন্ম- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের অনুপ্রেরণার নাম বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা জানাতে পেরে আমরা গর্বিত।’
এসএন