পুরান ঢাকার বাদামতলী দেশি ফলের পাইকারি বাজার
দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি ফলের বাজার পুরান ঢাকার বাদামতলী এখন দেশি ফলনির্ভর হয়ে পড়েছে। ফল আমদানিকারকেরা বলছেন, গ্রীষ্মকালে উৎপাদন বেশি হওয়ায় দেশি ফল এখন বেশি বিক্রি হচ্ছে।
পাশাপাশি বিদেশি ফলও আসছে। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশি ফল এখন খুব সস্তা। তাই তারা সবাই এখন বাদামতলীতে ভিড় করছেন।
পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, গতবারের চেয়ে এ বছর ফরমালিন নিয়ে আতঙ্ক খুব একটা নেই। তাই এবার দেশি ফলের চাহিদা বেড়েছে। ফরমালিন আতঙ্কে দুই বছর আগে ফল আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে। ধীরে ধীরে এই আতঙ্ক কমে যাচ্ছে।
এখন বিভিন্ন জেলা থেকে টাটকা দেশি ফল বাদামতলীতে আসছে। এছাড়া তিনটি ধাপে বিদেশি ফল পরীক্ষা করা হয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ফল আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সেলিমুল হক এশা বাংলাদেশ টাইমস’কে বলেন, দেশে গ্রীষ্মকালে ফল উৎপাদন বেশি হয়। তাই দেশি ফল বেশি করে এই পাইকারি মার্কেটে চলে আসে।
বুধবার সরেজমিনে বাদামতলীর পাইকারি বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, ফলের আড়তের সব দোকানেই আম, আনারস, কাঁঠাল, তরমুজ, লিচু, ডাব, বেদানা পাওয়া যাচ্ছে। তবে আম, লিচু ও আনারস পাওয়া যাচ্ছে অনেক বেশি। আম পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে শুরু হয়ে ৮০ টাকার মধ্যে।
আর লিচু পাওয়া যাচ্ছে প্রতি শ’ ১৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। আর আনারস পাওয়া যাচ্ছে প্রতিটি সাত টাকা থেকে ২০ টাকার মধ্যে।
এছাড়া বিদেশি ফলের পসরা সাজিয়ে বসে আছেন দোকানিরা। এসব ফলের মধ্যে আছে আপেল, কমলা, ডালিম, খেজুর ও আঙুর। খুচরা বাজারের ক্রেতারা দরদাম করে এসব ফল কিনছেন।

আর সদরঘাট এলাকার বেশ কয়েকটি পাইকার দোকানে দেশীয় ফলের মধ্যে নাশপাতি ও কলা দেখা গেছে। সেগুলোও খুব সস্তা। প্রতিটি পাঁচ টাকা থেকে শুরু করে সাত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে এই কলাগুলো।
বাদামতলীতে বাবুবাজার-সদরঘাট সড়কের ফুটপাতে বসে খুচরা আপেল, আম, জাম, কাঁঠাল, আনারস, মাল্টা বিক্রি করছিলেন বেশ কয়েকজন।
এদের মধ্যে আবদুল মতিন বাংলাদেশ টাইমস’কে বলেন, সাধারণত দেশি ফল খুচরা বিক্রি করলে লাভ বেশি হয়। তাই এবার খুব সুন্দরভাবে আমরা বেচাকেনা করছি।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, দেশে গরম মৌসুমে ফল উৎপাদন বেশি হয়। তাই বিদেশি ফল তেমন একটা মানুষ খায় না। তবে এরও চাহিদা রয়েছে।
বাদামতলী ব্যবসায়ী সূত্র জানায়, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ বিদেশি ফল চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়। বাকি ৩০ শতাংশ আমদানি হয় সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বুড়িমারী ও হিলির স্থলবন্দর দিয়ে। এসব স্থান দিয়ে ফল আমদানি করার সময় তিন ধাপে ফল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তা বাজারে ছাড়ার অনুমতি দেয় সরকার। আর ফলে মাত্রাতিরিক্ত ফরমালিন বা ক্ষতিকর কোনো কিছু থাকলে ফল বাজারজাতে অনুমতি দেওয়া হয় না।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলেন, ফরমালিন আতঙ্কে গত বছর ফল আমদানি অনেক কমে গিয়েছিল। কিন্তু এখন ব্যবসা-বাণিজ্য আবার আগের অবস্থায় চলছে। বাদামতলীর প্রায় সাতশ ফলের দোকানে দিনে প্রায় পাঁচ থেকে সাত কোটি টাকার ফল বেচাকেনা হয়।
টাইমস/টিআর/জেডটি